TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য জড়িত নয়ঃ কিয়ার স্টারমার

ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী আটক করেছে এবং রাজধানী কারাকাসে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অভিযানের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্টারমার বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কী ঘটেছে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা জরুরি। তিনি জানান, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি কথা হয়নি।

স্টারমার বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই অংশ নেয়নি এবং সরকার ভেনিজুয়েলায় অবস্থানরত প্রায় ৫০০ ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারাকাসে ব্রিটিশ দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শনিবার ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করার পর যুক্তরাজ্য পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক আইন প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই মুহূর্তে আগে বাস্তব তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নিন্দা জানাতে কিয়ার স্টারমারের প্রতি চাপ বাড়ছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি অভিযানের কড়া সমালোচনা করে একে “অবৈধ” আখ্যা দেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এড ডেভি বলেন, মাদুরো নিষ্ঠুর ও অবৈধ শাসক হলেও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক হামলা বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে। তিনি সতর্ক করেন, এতে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো অন্য রাষ্ট্রে হামলা চালানোর অজুহাত পেতে পারে।

গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিও অভিযানের বিরোধিতা করে বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়মকে উপেক্ষা করছে।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ অভিযানের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করলেও এটিকে কৌশলগতভাবে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এতে যদি চীন ও রাশিয়া সতর্ক হয়, তবে ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে পারে।
এ ঘটনায় কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নিউজিল্যান্ড

ব্রিটেনে সপ্তাহান্তে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা

টুকু পুত্র আসিফ শামসের যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল সম্পত্তি, আলোচনায় চার বাড়ি