TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড জনপদঃ মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাজধানী কারাকাসের নিকটবর্তী এলাকায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.২ এবং তার কিছুক্ষণ পরই ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।

ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজধানী কারাকাস এবং উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী লা গুয়াইরায়। বিভিন্ন আবাসিক বহুতল ভবন, সরকারি স্থাপনা এবং বাণিজ্যিক ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাজধানীর মেট্রো ও ট্রেন চলাচলও নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তবে অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি বলে জানা গেছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, জরুরি সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা কম দেখা গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে এলে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও সহানুভূতি ও সহযোগিতার বার্তা আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা জরুরি উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক মানবিক সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকায় সংঘটিত অন্যতম শক্তিশালী এই ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার জন্য একটি বড় মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকট তৈরি করেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে না। তবে দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

হিলারির আঘাতে লণ্ডভণ্ড ক্যালিফোর্নিয়া

মানসিক ভারসাম্যহীন আলবেনিয়ানদের যুক্তরাজ্য হতে নির্বাসন দিয়েছে সরকার

সিউলে ‘ঘুম প্রতিযোগিতা’, ৮০ বছরের বৃদ্ধের বাজিমাত