15.5 C
London
October 1, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মধ্য আকাশে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাঃ কো-পাইলটের হামলায় আহত পাইলট

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। উড়োজাহাজটির কো-পাইলট প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান। পরে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।

ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। এতে প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। যাত্রীদের বড় অংশই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি ৩০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় থাকার সময় হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট কমে যায়। এ সময় বিমানে থাকা যাত্রীরা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত এবং পরে সম্ভাব্য ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠানো হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিটে কো-পাইলটের সঙ্গে প্রধান পাইলট ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে কো-পাইলট তাকে ছুরিকাঘাত করেন। আহত হওয়ার পরও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে কয়েকজন ককপিটে প্রবেশ করে অভিযুক্ত পাইলটকে নিবৃত্ত করেন। বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেন। তাদের হস্তক্ষেপের পর উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

পরে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। আহত প্রধান পাইলট ও অভিযুক্ত কো-পাইলট—দুজনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের আঘাত গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে গেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত কো-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়েছে। তিনি ওমানের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কী কারণে ককপিটে এই হামলা হয়েছিল এবং বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না—তা এখনো তদন্তাধীন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনার পর ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষও বিমানটির জরুরি অবতরণ ও ককপিটের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাদের ইসরায়েলে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পুরো ঘটনাটি নিয়ে সৌদি, ইসরায়েলি ও বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তান যাচ্ছেন না জেডি ভ্যান্সঃ ডোনাল্ড ট্রাম্প

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ‘খুব ভালো লোকঃ ট্রাম্প

ট্রাম্পের শুল্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন তার দলেরই প্রভাবশালী সিনেটর