TV3 BANGLA
আমেরিকা

মনিকা উইট হলেন ফাতেমাঃ ইউএস সাবেক ইন্টেলিজেন্স অফিসার যখন আমেরিকারই শত্রু

মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ মনিকা এলফ্রিড উইট, যিনি ২০১৩ সালে ইরানে চলে যান এবং দেশটির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত, তাকে ধরিয়ে দিতে ২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা এসেছে।

মনিকা উইটের জন্ম ১৯৭৯ সালে টেক্সাসের এল পাসোতে। ১৮ বছর বয়সে তিনি মার্কিন বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবং ক্রিপ্টোলজিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যানালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফারসি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পর তাকে সৌদি আরব (২০০২) ও ইরাক (২০০৫)-এ মুসলিম দেশগুলোর সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি এয়ার মেডেলসহ একাধিক পুরস্কার লাভ করেন।
ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং শত্রুর মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য কুরআন পড়তে শুরু করার পর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তিনি তার কলিগদের সাথে আলোচনায় দাবি করেন, ইসলাম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র যে চিত্র তুলে ধরেছে তা বাস্তবতার সাথে মেলে না। ২০০৮ সালে বিমান বাহিনী থেকে পদত্যাগ করার পরও তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। এ সময় ড্রোন হামলা বিশেষ করে আনওয়ার আল-আওলাকির হত্যা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন।

২০১২ সালে ইরানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজাব পরিধান শুরু করেন। ওই সফরের পর আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) কর্মকর্তাদের সাথে তার যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয়। ২০১৩ সালের জুন মাসে তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে ইরানে চলে যান।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইরানে যাওয়ার পর তিনি তার টপ সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের আওতাধীন গোপন তথ্য আইআরজিসির কাছে হস্তান্তর করেছেন। এর মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম এবং মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিচয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৬ সালে ইরান যখন মার্কিন নৌবাহিনীর ১০ জন কর্মকর্তাকে আটক করে, তখন জিজ্ঞাসাবাদেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

২০১৯ সালে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাকে গুপ্তচরবৃত্তি, জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্য হস্তান্তরসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তিনি এখনও এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং ইরানেই অবস্থান করছেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তার সম্ভাব্য ছদ্মনামের মধ্যে ফাতেমাহ জাহরা উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার গুরুত্ব বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন, মনিকা উইটের বিমান বাহিনী ও গোয়েন্দা বিষয়ক গভীর জ্ঞান ইরানের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে। একজন কর্মকর্তা তাকে ১ থেকে ১০-এর স্কেলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৭-৮ মাত্রার হুমকি হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ও সাইবার ডিভিশনের বিশেষ এজেন্ট ড্যানিয়েল উইয়ারজবিকি বলেন, “মনিকা উইট তার সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করে ইরানে চলে গেছেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্য সরবরাহ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি তিনি এখনও ইরানের কার্যকলাপকে সমর্থন করে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, “ইরানের এই সংকটময় মুহূর্তে কেউ তার অবস্থান সম্পর্কে জানলে এফবিআইকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

মনিকা উইট বর্তমানে নিরাপদে ইরানে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এফবিআই তার অবস্থান সম্পর্কিত তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ হুমকি মোকাবিলায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মনিকা উইটের মতো ব্যক্তিরা কীভাবে রিক্রুট হয় এবং দেশত্যাগ করেন, তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুসারে, যেকোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য জানা থাকলে সংস্থাটির হটলাইন বা ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ ফক্স নিউজ\স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রন ডিস্যান্টিস

নিউজ ডেস্ক

হোয়াইট হাউসে এবার ইফতার আয়োজন বাতিল হলো যে কারণে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে মেক্সিকোর কয়েক হাজার অ্যাসাইলামপ্রার্থী