ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুর দেহাতে এক যুবকের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নিজের শাশুড়িকে বিয়ে করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নবদম্পতির একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ও তার সাবেক শাশুড়ি বিয়ের নিবন্ধনের কাগজ হাতে নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা নিজেদের নতুন সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে সবাইকে তাদের বিয়ে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং নতুন জীবনের জন্য আশীর্বাদ কামনা করেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, মেয়ের বিয়ের পর থেকেই জামাই ও শাশুড়ির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। পরে ওই যুবক তার স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টেনে শাশুড়িকে নিয়ে আদালতে গিয়ে আইনগতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কানপুর দেহাত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রসিকতা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, আদালতের কেরানি হয়তো সাধারণ কোনো নথিপত্রের কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এমন একটি পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতার মুখোমুখি হবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
আরেকজন ব্যবহারকারী মজা করে লেখেন, এখন ওই যুবকের সাবেক স্ত্রী তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকবেন, আর তার সন্তানদের নতুন মাকে ‘দিদিমা-মা’ সম্বোধন করতে হবে। ফলে পুরো পারিবারিক বংশলতিকাই যেন জটিল এক ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এ ঘটনাকে বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, প্রাপ্তবয়স্ক দুজন ব্যক্তি আইনগতভাবে বিয়ে করলে তা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
ঘটনার সত্যতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চললেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আপাতত নতুন কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত মেলেনি।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া\ নিউজ ১৮
এম.কে

