TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মুসলিম বইয়ের দোকানকে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা স্পন্সরের অনুমতি নিয়ে বিতর্কঃ প্রশ্নের মুখে হোম অফিস

যুক্তরাজ্যে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির কয়েকটি ইসলামিক বইয়ের দোকান, নিউজএজেন্ট ও ভ্যাপ (ই-সিগারেট) দোকানকে বিদেশি কর্মী আনার জন্য স্পন্সর লাইসেন্স দেওয়ার তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনীতিকরা।

দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বার্মিংহামের একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইসলামিক বইয়ের দোকান ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৬টি স্কিলড ওয়ার্কার স্পন্সরশিপ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। ওই দোকানে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল-বান্নার বই, সাইয়্যেদ কুতুবের Milestones এবং যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ধর্মীয় বক্তা বিলাল ফিলিপসের বই বিক্রি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব বই যুক্তরাজ্যে বিক্রি করা আইনসিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট বইয়ের দোকানগুলো কোনো আইন ভঙ্গ করেছে—এমন অভিযোগ করা হয়নি। বিতর্কের মূল বিষয় হলো, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কীভাবে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার স্পন্সর লাইসেন্স পেয়েছে এবং সেই লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেছে।

স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা ২০২০ সালে ব্রেক্সিট-পরবর্তী নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে চালু করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য স্পন্সরশিপ সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করে ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন (UKVI)।

বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন রিফর্ম ইউকের অ্যাশফিল্ড আসনের এমপি লি অ্যান্ডারসন। তিনি বলেন, “এটি কনজারভেটিভ সরকারের ১৪ বছরের ব্যর্থতার একটি উদাহরণ। ডাক্তার ও প্রকৌশলী আনার পরিবর্তে আমরা এমন ইসলামিক দোকানের কর্মীদের এনেছি, যেখানে জিহাদ-সংক্রান্ত বই বিক্রি হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনস্বার্থে ভিসা স্পন্সরদের যথাযথভাবে যাচাই করার ক্ষেত্রে হোম অফিস ব্যর্থ হয়েছে।

তবে হোম অফিস এসব সমালোচনার জবাবে জানিয়েছে, বর্তমানে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার জন্য বেতনসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ফলে এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নতুন করে স্পন্সর লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই কম। হোম অফিস আরও জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর লাইসেন্স থাকা মানেই তাদের মাধ্যমে আনা সব কর্মীর ভিসা অনুমোদিত হবে—এমন নয়। প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

হোম অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে ভিসা স্পন্সরশিপ সার্টিফিকেট ইস্যুর অনুমোদনপ্রাপ্ত। এছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে বিদেশ থেকে নিয়োগযোগ্য পেশার তালিকা থেকে ১০০টিরও বেশি পেশা বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে স্পন্সর লাইসেন্স বাতিলের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৯৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের মানদণ্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট বইয়ের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখন পর্যন্ত আনা হয়নি; বিতর্কটি মূলত স্পন্সর লাইসেন্স প্রদান এবং তদারকি ব্যবস্থাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চুরি হওয়া ফোনের জন্য বাড়ি তল্লাশির অনুমতি পাবে পুলিশ

করবিন-সুলতানার নেতৃত্বে নতুন বামঘেঁষা দল গঠনের ঘোষণা, লেবার ছাড়লেন জারা সুলতানা

নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনে জ্বালানির দামে সাশ্রয়ী অফার, দেখে নিন কোথায় মিলবে সস্তা পেট্রোল