দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের একটি থাই ম্যাসাজ পার্লার থেকে দেয়াল ভেঙে পাশের গয়নার দোকানে সুড়ঙ্গ কেটে ঢোকার চেষ্টা করা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, একই কৌশলে তারা লন্ডনের বিভিন্ন গয়নার দোকানে ধারাবাহিক চুরি চালিয়ে ৭ লাখ পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন ৩৯ বছর বয়সী ইয়োয়ান আসাফেতি, ৩৮ বছর বয়সী লরেন্তিউ-ড্যানিয়েল নিটিসোয়ারা এবং ৪২ বছর বয়সী সার্জিউ প্লাস্টিন। কিংস্টন ক্রাউন কোর্টে তারা চুরির ষড়যন্ত্র ও অপরাধমূলক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ২৩ অক্টোবর তাদের সাজা ঘোষণা করা হবে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ জুলাই ভোররাতে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের মিচাম রোড এলাকায়। রাত ৩টার কিছু পর চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পালানোর সময় কাছের একটি গলি থেকে নিটিসোয়ারাকে আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ভবনের ছাদে লুকিয়ে থাকা আসাফেতিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর পুলিশ থাই ম্যাসাজ পার্লারটিতে অভিযান চালিয়ে দেয়ালে খোঁড়া সুড়ঙ্গ এবং গর্ত তৈরির কাজে ব্যবহৃত ড্রিল, কাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগ উদ্ধার করে। তদন্তকারীরা জানান, চক্রটি ম্যাসাজ পার্লারের ভেতর থেকে দেয়াল ভেঙে সরাসরি পাশের গয়নার দোকানে ঢুকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে চুরি করার পরিকল্পনা করেছিল।
চক্রের তৃতীয় সদস্য সার্জিউ প্লাস্টিনকে একই দিন কয়েক ঘণ্টা পর স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি আয়ারল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের ফ্লাইং স্কোয়াডের তদন্তে জানা যায়, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে লন্ডনের বিভিন্ন গয়নার দোকানে সংঘটিত একাধিক চুরির সঙ্গে এই তিনজনের যোগসূত্র রয়েছে। তারা রাতের বেলায় পাশের ভবন ব্যবহার করে সুড়ঙ্গ কেটে দোকানে প্রবেশ করত, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়ানো যায়। পুলিশের ধারণা, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও তারা একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকতে পারে।
ফ্লাইং স্কোয়াডের গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট ড্যান মিচেল বলেন, অভিযুক্তদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করায় শুধু একটি চুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি, বরং ৭ লাখ পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের গয়নার দোকানে চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রেরও সন্ধান মিলেছে। তিনি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

