19.6 C
London
June 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের এসেক্স বেল হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো সব আশ্রয়প্রার্থীঃ চুক্তি বাতিল করল হোম অফিস

ইংল্যান্ডের এসেক্স কাউন্টির ইপিং শহরে অবস্থিত বেল হোটেল থেকে সব আশ্রয়প্রার্থীকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। একই সঙ্গে হোটেলটির সঙ্গে সরকারের আবাসন চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১১ জুলাই থেকে হোটেলটি আর আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হবে না বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত গ্রীষ্মে এই হোটেলটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে, যখন সেখানে অবস্থানরত এক আশ্রয়প্রার্থী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং এক নারীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযুক্ত হাদুশ কেবাতুকে পরবর্তীতে ইথিওপিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া স্থানীয় বিক্ষোভ দ্রুতই উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে ইপিংয়ে কয়েক রাত ধরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সহিংসতা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, হোটেলটির বাইরে দায়িত্ব পালনরত দুই নিরাপত্তারক্ষীও বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন। জুলাই মাসে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে এবং ডজনখানেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে ইপিং ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, হোম অফিস ইতোমধ্যে হোটেলটি থেকে সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে। পরদিন শুক্রবার কাউন্সিল নিশ্চিত করে যে, বেল হোটেলের সঙ্গে করা সরকারি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের পর এটি আর আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

তবে আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিয়েছে হোম অফিস। তাদের দাবি, অগ্নি নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসিন্দা ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর তাদের আবার ফিরিয়ে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কিছু বাসিন্দা হোটেলটি বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও উগ্র ডানপন্থার বিরোধীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরে আসার সম্ভাবনা কার্যত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল যে বেল হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এর আগে ইপিং ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল আদালতের কাছে হোটেলটিকে স্থায়ীভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছিল। কাউন্সিলের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, হোটেলটি “অস্থিরতা ও বিক্ষোভের উর্বর ক্ষেত্র” হয়ে উঠেছে।

এদিকে, হোম অফিস জানিয়েছে যে সরকার অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে আশ্রয়প্রার্থী হোটেলগুলোর ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করার নীতি অনুসরণ করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলের পরিবর্তে সামরিক ব্যারাক বা অন্যান্য মৌলিক আবাসন ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হবে।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসীদের আসতে উৎসাহিত করে এমন প্রণোদনা দূর করছি। তাই আমরা সব আশ্রয়প্রার্থী হোটেল বন্ধ করব এবং বিকল্প আবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করব।”

বিশ্লেষকদের মতে, বেল হোটেলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাজ্যের আশ্রয়নীতিকে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একদিকে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্ন, অন্যদিকে যুদ্ধ, নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য মানবিক ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার দায়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনিরা নিরাপত্তা না পেলে ইসরায়েলও নিরাপদ হবে না:ডেভিড ক্যামেরন

স্পাই ক্যামেরায় ধরা পড়লেই জরিমানাঃ যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোয় নতুন ফাঁদ যাত্রীদের জন্য

যুক্তরাজ্যে হামের সংক্রমণ ১৩ বছরের সর্বোচ্চঃ দ্রুত ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ