যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড সিটি কাউন্সিলে রিফর্ম ইউকের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলটির কাউন্সিলর রবার্ট হ্যানসন সদস্যপদ নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি এখন স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলে ফিরে যাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে রিফর্ম ইউকে।
২০২৬ সালের মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে শেফিল্ডের ফার্থ পার্ক ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন রবার্ট হ্যানসন। তিনি ১ হাজার ৪৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং কাউন্সিলের নেতা ফ্র্যান বেলবিনকে পরাজিত করেন। নির্বাচনের পর তিনি রিফর্ম ইউকের কাউন্সিলর দলের প্রাপ্তবয়স্ক স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্নবিষয়ক নীতি কমিটির মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করছিলেন।
তবে দলীয় সদস্যপদ আর নবায়ন না করায় রিফর্ম ইউকে তার ওপর থেকে দলীয় হুইপ প্রত্যাহার করেছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ই-মেইল ও টেলিফোনের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই আহ্বানে সাড়া দেননি।
হ্যানসন যদি কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ না করেন এবং স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন, তাহলে তার আসনে নতুন করে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে ফার্থ পার্ক ওয়ার্ডে তার নির্বাচিত পদটি বহাল থাকবে।
মে মাসের নির্বাচনে শেফিল্ডে রিফর্ম ইউকে ১২টি আসন লাভ করে। এর ফলে দলটির মোট কাউন্সিলর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ জনে। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই একাধিক ঘটনায় সেই সংখ্যা কমতে শুরু করে।
উডহাউস ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ন্যাথানিয়েল মেনডেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু পোস্টের কারণে দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। অন্যদিকে শিরগ্রিন ও ব্রাইটসাইড ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিক লি দল থেকে পদত্যাগ করেন। তারা দুজনই বর্তমানে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রবার্ট হ্যানসনের দলত্যাগের ফলে শেফিল্ড সিটি কাউন্সিলে রিফর্ম ইউকের কাউন্সিলর সংখ্যা এখন ১০ জনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ নির্বাচনের পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দলটি তিনজন কাউন্সিলর হারিয়েছে।
এদিকে শেফিল্ডে রিফর্ম ইউকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের দুটি স্থানীয় শাখাকে একীভূত করে একটি শাখায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কয়েকজন সদস্য জাতীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ করেছেন।
দলের স্থানীয় বৈঠকগুলো নিয়েও উত্তেজনা ও তীব্র মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় দলীয় নেতা জন হেসকেটকে ঘিরে কিছু সদস্যের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও শেফিল্ড সিটি কাউন্সিলে রিফর্ম ইউকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কাউন্সিলটি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের একক নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমানে লেবার পার্টি ও গ্রিন পার্টি যৌথভাবে কাউন্সিল পরিচালনা করছে।
শেফিল্ড কাউন্সিলে লেবার পার্টির ২৫ জন কাউন্সিলর এবং গ্রিন পার্টির ২০ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ২২টি আসন। স্থানীয় নির্বাচনের পর তারা বিরোধী দলের ভূমিকায় যায়। এর অন্যতম কারণ, তারা গ্রিন বেল্ট এলাকায় নির্মাণকাজের বিরোধিতা করছে।
রিফর্ম ইউকে বর্তমানে ১০ জন কাউন্সিলর নিয়ে কাউন্সিলের চতুর্থ বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তবে নির্বাচনের পরপরই একাধিক কাউন্সিলর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রবার্ট হ্যানসনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তিনি কাউন্সিলর পদ ছেড়ে দেননি। ফলে তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে রিফর্ম ইউকের দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

