10 C
London
April 5, 2025
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস উইন্ডরাশ প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধে ঢালছে টাকা

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রকাশ ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাদের এই ব্যর্থ চেষ্টায় আইনজীবী ভাড়া করার জন্য অন্তত £২২,০০০ খরচ করেছে হোম অফিস। যেখানে বলা হয়েছে উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির মূল শিকড় ৩০ বছরের বর্ণবাদী অভিবাসন আইন প্রণয়নের মধ্যে নিহিত – এই সপ্তাহে কর্মকর্তারা এটি স্বীকার করেছেন।
সরকার তিন বছর ধরে একটি প্রতিবেদন চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা একজন ইতিহাসবিদ দ্বারা রচিত এবং হোম অফিসের পক্ষ থেকে কমিশনকৃত ছিল। এতে বলা হয়েছে, “ব্রিটিশ সাম্রাজ্য একটি বর্ণবাদী মতাদর্শের উপর নির্ভর করেই টিকে ছিল” এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অভিবাসন আইনগুলো যুক্তরাজ্যের অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী হ্রাস করার জন্য প্রণীত হয়েছিল।

জেমস কুম্বস, একজন স্বচ্ছতা কর্মী দাবি করেন, হোম অফিস রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর বলে তথ্যটি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তার আবেদন ২০২৩ সালে খারিজ হয়ে যায়, তবে তিনি সাধারণ নিয়ন্ত্রক চেম্বার তথ্য অধিকার বিভাগের প্রথম-স্তরের ট্রাইব্যুনালে আপিল জিতে যান।

‘The Historical Roots of the Windrush Scandal’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের প্রকাশ ঠেকাতে ব্যর্থ প্রচেষ্টার ব্যয় সম্পর্কে হোম অফিসের কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। হোম অফিস জানায় প্রথম স্তরের ট্রাইব্যুনালে মামলাটি চালাতে আইনি বিল বাবদ £২২,৩৩৯.৬০ খরচ হয়েছে। তারা আরও জানায়, এটি মোট খরচের একটি ছোট অংশমাত্র।

২০২২ সালের মে মাসে গার্ডিয়ানে ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির গভীরে-গাঁথা আছে বর্ণবাদ”। তাছাড়া ১৯৫০-১৯৮১ সময়কালে প্রতিটি অভিবাসন বা নাগরিকত্ব আইন আংশিকভাবে হলেও অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে: “১৯৬২, ১৯৬৮ এবং ১৯৭১ সালের মূল অভিবাসন আইনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অশ্বেতাঙ্গ মানুষের সংখ্যা হ্রাস পায়।”

উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারি ঘটেছিল তখন, যখন হাজার হাজার মানুষ, যারা আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে বাস করছিলেন—অনেকেই ক্যারিবিয়ানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—তাদের ভুলভাবে অভিবাসন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর ফলে, অনেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করা হয় বা স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন থেকে বঞ্চিত করা হয়; কেউ কেউ ভুলভাবে গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসিতও হন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট পরিদর্শক ওয়েন্ডি উইলিয়ামস বলেন, “যুক্তরাজ্যের ঔপনিবেশিক ইতিহাস সম্পর্কে হোম অফিসের কর্মকর্তাদের অল্প জ্ঞান” ছিল উইন্ডরাশ ঘটনার একটি কারণ। পরবর্তীতে, ৩৫,০০০ হোম অফিস কর্মীকে ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এই ঐতিহাসিক প্রতিবেদনটি সেই কাজের অংশ হিসেবেই কমিশন করা হয়।

প্রতিবেদনটি গোপন রাখার যৌক্তিকতা দিতে হোম অফিস আদালতে যে আইনি যুক্তি দেয়, তাতে বলা হয়, যিনি ইতিহাস লিখেছেন, সেই ইতিহাসবিদ “পক্ষপাতের শিকার হতে পারেন”, এবং তার ব্যাখ্যা “হোম অফিসের মত নয়, এবং এটি ইতিহাসের একমাত্র গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও নয়।”

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টমিনস্টারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিষয়ে অধ্যাপক স্যাম রাফায়েল বলেন,—এই প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধে চেষ্টাগুলো ছিল জনগণের অর্থের স্পষ্ট অপচয়। তিনি বলেন, “প্রতিবেদনটি বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু বিব্রতকর বিষয় ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন আইনে গোপন রাখার যুক্তি হতে পারে না।”

২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হোম অফিস ৩,১৫৫টি উইন্ডরাশ অভিযোগে প্রায় £১০৮ মিলিয়ন ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে।

একজন হোম অফিস মুখপাত্র বলেন, “এই ব্যয়গুলি আগের সরকারের সময়ে হয়েছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছেন, যা আমাদের প্রতিশ্রুত ‘মূলগত সংস্কার’-এর অংশ হিসেবে চ্যালেঞ্জ স্বাগত জানানোর ইঙ্গিত দেয়।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
০৫ এপ্রিল ২০২৫

আরো পড়ুন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারকে তুলোধুনো করলেন ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ারসি

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের কেয়ার ভিসা নিয়ে হোম অফিসের ব্যর্থতা প্রকাশ

ধনীদের জন্য বিদেশি স্বামী-স্ত্রী নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে যাচ্ছে অনাগত ইমিগ্রেশন আইন