যুক্তরাজ্যে প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চমবারের মতো অবৈধভাবে দেশে ঢুকে পড়ায় দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন আলবেনীয় নাগরিক রোমিও জানি। ইউরোপ থেকে আনা গাড়ির যন্ত্রাংশ বোঝাই একটি সিল করা ট্রেলারের ভেতরে লুকানো অবস্থায় তাকে সান্ডারল্যান্ডের নিসান কারখানাগামী পথ হতে আটক করা হয়।
নিউক্যাসল ক্রাউন কোর্টে সাজা ঘোষণার সময় রেকর্ডার নিকোলাস ওয়ার্সলি বলেন, বহিষ্কার আদেশকে প্রকাশ্যভাবে উপেক্ষা করার এ প্রবণতা সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং অপরাধকে উৎসাহিত করে। আদালত জানায়, এটি পঞ্চমবার, যখন জানিকে যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তারের পর জানি স্বীকার করেন যে তিনি আলবেনিয়া থেকে বেলজিয়াম হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং মানবপাচারকারীদের ৫ হাজার পাউন্ড প্রদান করেন। তার দাবি ছিল, নিজ দেশে তার জীবন ঝুঁকির মুখে থাকায় তিনি এই অবৈধ পথে যাত্রা করেন।
অভিবাসীর পক্ষের আইনজীবী জানান, জানি যুক্তরাজ্যকে বেছে নেন কারণ এখানে তার বন্ধু ও দূরসম্পর্কের স্বজন রয়েছে। তবে আদালতে স্পষ্ট করা হয়, তিনি যুক্তরাজ্যের মাটিতে বৈধভাবে প্রবেশ করেননি এবং বহিষ্কার আদেশ অমান্য করেই বারবার দেশে ঢুকেছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রথমবার জানি যুক্তরাজ্যের নজরে আসেন। সে সময় তিনি স্বীকার করেছিলেন যে লরির পেছনে করে দেশে ঢুকেছিলেন এবং অবৈধভাবে কাজ করছিলেন। স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনে সই করার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে তাকে প্রথমবার অপসারণ করা হয়।
এরপর ২০১৮ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন এবং ভুয়া পরিচয়পত্র রাখা, মাদক-সম্পর্কিত ষড়যন্ত্র ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের বহিষ্কারাদেশ জারি হয় এবং মার্চে তাকে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০২১ সালে তিনি আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আত্মগোপনে যান এবং এক বছরের বেশি সময় ‘পলাতক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ২০২৪ সালের মে মাসে তাকে তৃতীয়বার অপসারণ করা হয়, যা ছিল বহিষ্কার আদেশ ভঙ্গের প্রথম ঘটনা।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কর্নওয়ালের ফালমাউথে একটি বিলাসবহুল ইয়টে লুকানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় বহিষ্কার আদেশ ভঙ্গের দায়ে তাকে আবার কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং আগস্টে চতুর্থবারের মতো অপসারণ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইয়ট ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী পাচার সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার চক্রের একটি নতুন কৌশল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় বর্ডার ফোর্স নজরদারি বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে এক মানবপাচারকারীকে ২১ জন অভিবাসীকে বিলাসবহুল ইয়টে গোপনে আনার দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক ট্রেলার ঘটনায় তৃতীয়বারের মতো বহিষ্কার আদেশ ভঙ্গের দায়ে রোমিও জানিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা শেষে তাকে পঞ্চমবারের মতো যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্য আদালত।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস / ইয়াহু ডট নিউজ
এম.কে

