যুক্তরাজ্যে ২০১২ সালের Legal Aid, Sentencing and Punishment of Offenders Act (LASPO) কার্যকর হওয়ার পর অভিবাসন খাতে লিগ্যাল এইডের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হলেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন ধরনের মামলা লিগ্যাল এইডের আওতায় পড়ে এবং কোনগুলো এর বাইরে, তা নিয়ে অনেক আবেদনকারী ও আইনজীবীর মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়ে গেছে।
অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত লিগ্যাল এইড কার্যক্রম পরিচালনা করে The Law Society-এর Immigration and Asylum Accreditation Scheme (IAAS)। এই ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদিত পরামর্শদাতা ও আইনজীবীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অভিবাসন মামলায় সরকারি অর্থায়নে আইনি সহায়তা দিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন মামলায় সাধারণত তিন ধরনের লিগ্যাল এইড সেবা রয়েছে— লিগ্যাল হেল্প, কন্ট্রোলড লিগ্যাল রিপ্রেজেন্টেশন এবং ফুল রিপ্রেজেন্টেশন। এর মধ্যে লিগ্যাল হেল্পের আওতায় আবেদন প্রস্তুত, ক্লায়েন্টের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, নথিপত্র তৈরি ও সিদ্ধান্ত-পরবর্তী প্রাথমিক পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আপিল দাখিল, ট্রাইব্যুনালে প্রতিনিধিত্ব এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের মতো কার্যক্রম কন্ট্রোলড লিগ্যাল রিপ্রেজেন্টেশনের আওতায় পড়ে।
লিগ্যাল এইড পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়— ‘মেরিটস টেস্ট’ এবং ‘মিনস টেস্ট’। মেরিটস টেস্টে মামলার সাফল্যের সম্ভাবনা এবং আইনগত যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করা হয়। আর মিনস টেস্টে আবেদনকারীর আয়, সঞ্চয়, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
বর্তমান আইন অনুযায়ী আশ্রয় আবেদন, আশ্রয় সহায়তা, মানব পাচার ও আধুনিক দাসত্বের শিকার ব্যক্তিদের মামলা, গৃহ নির্যাতনের শিকারদের কিছু আবেদন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের বিষয়, অভিবাসন আইনের অধীনে আটক ব্যক্তিদের মামলা, জুডিশিয়াল রিভিউ এবং স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিলস কমিশনের মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিগ্যাল এইডের আওতায় রয়েছে।
তবে অধিকাংশ পারিবারিক ও মানবাধিকারভিত্তিক অভিবাসন আবেদন, বিশেষ করে Article 8-এর আওতায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অধিকার সংক্রান্ত আবেদন, ডিপোর্টেশনবিরোধী কিছু মামলা, EU Settlement Scheme, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদন এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন সাধারণত লিগ্যাল এইডের আওতার বাইরে থাকে।
এ ধরনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা Exceptional Case Funding (ECF) বা ব্যতিক্রমী অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি প্রমাণ করা যায় যে আইনি সহায়তা না পেলে আবেদনকারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে, তাহলে Legal Aid Agency বিশেষ বিবেচনায় অর্থায়ন অনুমোদন করতে পারে।
আইনজীবীরা বলছেন, সফল ECF আবেদন করার জন্য শুধু আইনি যুক্তি যথেষ্ট নয়; আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, মানসিক স্বাস্থ্য, আবাসন সংকট এবং নিজের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে অক্ষমতার মতো বিষয়গুলোরও বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।
উদাহরণ হিসেবে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা, গৃহহীনতা, চরম দারিদ্র্য অথবা গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগা কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার (Article 8) ভিত্তিক আবেদন করতে চান, তাহলে লিগ্যাল এইড না পেলে তার মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি দেখিয়ে ব্যতিক্রমী অর্থায়নের আবেদন করা যেতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে The Law Society জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষের এখনও অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত লিগ্যাল এইড সেবায় কার্যকর প্রবেশাধিকার নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অর্থায়ন কমে যাওয়ার ফলে নিবন্ধিত পরামর্শদাতার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, একই সঙ্গে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারও সীমিত হয়ে পড়েছে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লিগ্যাল এইড কনট্রাক্টধারী আইনজীবী ও পরামর্শদাতাদের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক আইনি সহায়তা না পেলে অনেক বৈধ আবেদনকারীও জটিল অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

