TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগের মধ্যেই এমপি পদ ছাড়লেন নাইজাল ফারাজ

আর্থিক সুবিধা ঘোষণা না করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজ ক্ল্যাকটনের এমপি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পদত্যাগের ফলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপনির্বাচনে তিনি আবারও প্রার্থী হবেন। তার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভিডিও বার্তায় ফারাজ বলেন, “এটি হবে জনগণ বনাম প্রতিষ্ঠানের উপনির্বাচন। আমার কর্মকাণ্ডের বিচার ক্ল্যাকটনের জনগণই করবেন।”

তার এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন তিনি আর্থিক সুবিধা যথাযথভাবে সংসদে নিবন্ধন না করার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি। সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জর্জ কটরেলের কাছ থেকে কর্মী, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করলেও সেগুলো তিনি সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করেননি।

এছাড়া ২০২৪ সালের শুরুতে রিফর্ম ইউকের অন্যতম দাতা ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ড ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যয়ের অনুদানও যথাসময়ে নিবন্ধন না করায় তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ফারাজ। তার দাবি, “আমি কোনো ভুল করিনি। আমি কোনোভাবেই আইন ভঙ্গ করিনি।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যম তার পরিবারকে অযথা হয়রানি করছে।

যদিও এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করে পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি, তবুও এতে তার বিরুদ্ধে চলমান সংসদীয় তদন্ত বন্ধ হবে না। পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারের তদন্ত চলতেই থাকবে। তদন্তে যদি সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ মেলে এবং দীর্ঘমেয়াদি বরখাস্তের মতো শাস্তি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও ক্ল্যাকটনে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক হেনরি জেফম্যান এই সিদ্ধান্তকে “সাহসী রাজনৈতিক কৌশল” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, উপনির্বাচনে জয়ী হলেও ফারাজ তদন্ত থেকে রেহাই পাবেন না।

ফারাজের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি এটিকে “মরিয়া হয়ে করা একটি রাজনৈতিক নাটক” বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক মন্তব্য করেছেন, “চাপের মুখে ভেঙে পড়েছেন ফারাজ।”

এদিকে লেবার পার্টির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা দলীয়ভাবে এই উপনির্বাচন বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, ফারাজের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ভোটারদের সামনে যাওয়া উচিত নয়। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফারাজ আরও জানিয়েছেন, উপনির্বাচনের ব্যয় বহনের প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। তবে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে ক্ল্যাকটনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিবিসির সঙ্গে কথা বলা এক নারী বলেন, তিনি ফারাজের সিদ্ধান্তে হতাশ। তার অভিযোগ, ফারাজ নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এখন তা থেকে সরে এসেছেন।

আরেকজন ভোটার বলেন, তিনি ভেবেছিলেন ফারাজ দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি হতাশ এবং ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

ফারাজের এই পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে ক্ল্যাকটনের উপনির্বাচনের ফল এবং তার বিরুদ্ধে চলমান সংসদীয় তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল কেনার দৌড়ে মুকেশ আম্বানি

কোভিডকালে প্রতারণামূলক ঋণ পরিচালনার জেরে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক

ম্যানচেস্টার হামলার পর লন্ডনে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল নিষিদ্ধের দাবি জোরদার