15.9 C
London
October 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার দাবি ফারাজের

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের দেশটিতে পৌঁছাতে সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পক্ষে মত দিয়েছেন রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী পডকাস্টার বেনি জনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফারাজ বলেন, যারা এই আগমনকে সহজতর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কোন কোন সংস্থা বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে মামলা করা উচিত, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
সাক্ষাৎকারে বেনি জনসন প্রশ্ন করেন, যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আগমনকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থা থাকা উচিত কি না। জবাবে ফারাজ বলেন, তিনি এ ধরনের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সমর্থক। তার অভিযোগ, বেসরকারি ও দাতব্য সংস্থাগুলো এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কিছু সংগঠন আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে।
ইংলিশ চ্যানেলে বিপদে পড়া মানুষকে উদ্ধারকারী সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনকে (আরএনএলআই) নিয়েও অতীতে সমালোচনা করেছেন ফারাজ। ২০২১ সালে তিনি সংস্থাটিকে অভিবাসীদের ‘ট্যাক্সি সার্ভিস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সংস্থাটি সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার করে থাকে, যার মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীরাও রয়েছেন। তবে সমুদ্রে জীবন রক্ষা করাই তাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য।
রিফর্ম ইউকের অন্য নেতারাও আরএনএলআইয়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংলিশ চ্যানেল থেকে উদ্ধার করা মানুষকে তীরে নিয়ে আসার সময় আরএনএলআইয়ের কর্মীদের প্রতি ডানপন্থী বিক্ষোভকারীদের দুর্ব্যবহারের ভিডিওও রিফর্ম ইউকের এক কাউন্সিলর শেয়ার করেছিলেন। সংস্থাটি এর আগে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে।
আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা ও প্রচারাভিযান পরিচালনাকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বানকে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বেসরকারি সংগঠনগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
সাক্ষাৎকারে ফারাজ মুসলিম আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্যে আগমনের বিষয়টিও বারবার তুলে ধরেন। তার দাবি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পশ্চিমা দেশগুলোর জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বদলে যেতে পারে।
ফারাজ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর কোনো দুর্বল নেতা ক্ষমতায় এলে এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং বেনি জনসনের অনুষ্ঠান ঘৃণাত্মক বক্তব্যের অভিযোগে নিষিদ্ধ হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিকের বিষয়েও মন্তব্য করেন ফারাজ। তার দাবি, তারা ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি হিসেবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ বক্তব্যের পক্ষে তিনি সাক্ষাৎকারে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি। ওই পাঁচজনকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার সমালোচনা করে ফারাজ পুলিশের কথিত ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, কিছু ব্যক্তিকে বর্ণবাদী হিসেবে বিবেচিত বক্তব্যের কারণে আটক রাখা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোরতা দেখানো হচ্ছে না।
রিফর্ম ইউকের এক মুখপাত্র ফারাজের মন্তব্য সম্পর্কে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, তার বক্তব্য নিজেই সবকিছু স্পষ্ট করে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নতুন করে আলোচনায় সরকারি নির্দেশিকা

কেমন ছিল প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের প্রথম ডেটিং

অতিরিক্ত জোরে শিশুকে নাড়াচাড়া করায় হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যুঃ বাঙ্গালী পিতার বিচার শুরু