TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে বড় পরিবর্তনঃ ৩ মাসের মধ্যে আবেদন না করলে বন্ধ হতে পারে বেনিফিট

যুক্তরাজ্যে পুরোনো বেনিফিট ব্যবস্থা থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কর্মসংস্থান ও পেনশন বিভাগ বা ডিডব্লিউপির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৪২০ জন বেনিফিট-গ্রহীতাকে কর্মসংস্থান ও সহায়তা ভাতা বা ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তর করা বাকি রয়েছে।

ডিডব্লিউপির সেবা ও প্রতারণা বিষয়ক মহাপরিচালক নিল কোলিং ২০২৬ সালের আগস্টের শেষের পরিস্থিতি নিয়ে কর্ম ও পেনশনবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্যদের তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, এক বছর আগেও ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৪২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

যাদের পুরোনো বেনিফিট থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের সময় হয়েছে, তাদের ডিডব্লিউপি একটি ‘মাইগ্রেশন নোটিশ’ চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে সাধারণত তিন মাসের সময়সীমা দেওয়া থাকে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের জন্য আবেদন করতে হয়।

নিল কোলিং জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ৪২০ জনের মধ্যে প্রায় ১৬০ জন বর্তমানে মাইগ্রেশন নোটিশের সময়সীমার মধ্যে রয়েছেন। অর্থাৎ, এই ১৬০ জনকে নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে তাদের আগের বেনিফিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তবে অবশিষ্ট বেনিফিট-গ্রহীতাদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিডব্লিউপির হিসাবে প্রায় ২৬০ জন এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন সম্পন্ন করতে একজন ‘অ্যাপয়েন্টি’র সহায়তা প্রয়োজন।

অনেকের হয়ে আবেদন করার মতো বন্ধু বা পরিবারের সদস্য না থাকায় ডিডব্লিউপি স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসব কাউন্সিলকে ‘কর্পোরেট অ্যাপয়েন্টি’ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় বেনিফিট-গ্রহীতাদের ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

যেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য এখনও অ্যাপয়েন্টি নির্ধারণ করা হয়নি, তাদের কাছে মাইগ্রেশন নোটিশ পাঠানো হচ্ছে না। ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে না।

নিল কোলিং বলেন, শেষ পর্যায়ের মামলাগুলো তুলনামূলকভাবে জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে অন্যের সহায়তা প্রয়োজন, তাদের ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনেক বেনিফিট-গ্রহীতাকে বাড়তি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। নিল কোলিং জানিয়েছেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডিডব্লিউপির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন পূরণে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস সংসদীয় কমিটির সামনে বলেন, ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে মানুষকে স্থানান্তর করা একটি বড় কর্মযজ্ঞ। অনেক বেনিফিট-গ্রহীতার জন্য এই পরিবর্তন কঠিন হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে ডিডব্লিউপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু মানুষ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় তাদের আগের বেনিফিট বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

নিল কোলিং জানান, কোনো বেনিফিট-গ্রহীতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের যোগ্যতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। কেউ নতুন করে সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করতে পারেন, কারও সঞ্চয়ের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে যেতে পারে অথবা কেউ যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গেলেও ডিডব্লিউপিকে তা জানাতে পারেননি।

এ ধরনের পরিবর্তনের তথ্য ডিডব্লিউপিকে না জানানো হলে বেনিফিট-গ্রহীতার বেনিফিটের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বেনিফিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ডিডব্লিউপির সর্বশেষ হিসাব বলছে, ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। এক বছর আগে যেখানে প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের অপেক্ষায় ছিলেন, সেখানে বর্তমানে বাকি রয়েছেন মাত্র ৪২০ জন।

তবে মাইগ্রেশন নোটিশ পাওয়া বেনিফিট-গ্রহীতাদের জন্য তিন মাসের সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন সম্পন্ন না করলে আগের বেনিফিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ডিডব্লিউপির চিঠি পাওয়া ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেটগুলোতে পেমেন্ট পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

যুক্তরাজ্যের মিডল্যান্ডসে খরা ঘোষণা, নদীর পানি রেকর্ড স্তরে নিম্নগামী

যুক্তরাজ্য সরকার আশ্রয়প্রার্থী আবাসন চুক্তি থেকে অতিরিক্ত ৭৪ মিলিয়ন পাউন্ড উদ্ধার করেছে