15.2 C
London
August 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে করদাতাদের কাঁধে পড়তে পারে ১৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বোঝা

যুক্তরাজ্যে বিদেশি উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ আবারও দেশের জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের বিদেশি সহায়তা ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে রাখার কথা রয়েছে। তবে সরকারের ভেতরে ও লেবার পার্টির একাংশে আগের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে যাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, সহায়তার পরিমাণ শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে। বর্তমান আর্থিক চাপের মধ্যে এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএফএসের এক অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত এই ব্যয় মেটাতে সরকারকে কয়েকটি কঠিন বিকল্পের মুখোমুখি হতে হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে কর বৃদ্ধি, অন্যান্য সরকারি খাতে ব্যয় কমানো অথবা আরও বেশি ঋণ নেওয়া। ফলে বিদেশি সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সরাসরি বা পরোক্ষ আর্থিক প্রভাব সাধারণ করদাতাদের ওপর পড়তে পারে।

এদিকে লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য বিদেশি সহায়তার পুরোনো লক্ষ্যমাত্রায় ফেরার জন্য ১০ বছরের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ধাপে ধাপে সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে একসময় জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।

তবে এখনো এই লক্ষ্যমাত্রায় ফেরার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে আর্থিক পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব অনুমতি দিলে বিদেশি সহায়তা জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

ফলে সরকারের সামনে এখন দুটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—একদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামলে অতিরিক্ত বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যয় বহন করা।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে এর প্রভাব যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থব্যবস্থা, করনীতি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতের ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে। তবে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে অর্থের সংস্থান ও সময়সূচি নিয়ে সরকারকে আরও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

বিড়াল হত্যায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ নাগরিক

ব্রিটেনে একদিনে কোভিড সনাক্ত ২৪ হাজার, মৃত্যু ৬৫

যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগঃ মুসলিম কবরস্থানে পাশে কুকুরের মলত্যাগের অভিযোগ