বার্কিং ও ড্যাগেনহ্যামে কাউন্সিলের মালিকানাধীন আবাসন জালিয়াতি নিয়ে পুলিশের চলমান তদন্তে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা প্রকাশ পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক লেবার কাউন্সিলর। সিটি অব লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, শত শত বাড়ি দুর্নীতিগ্রস্ত হাউজিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অনিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবার কাউন্সিলর রকি গিল বলেন, তদন্তের পরিধি যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই এটি বৃহৎ পরিসরের সংঘবদ্ধ অপরাধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, এসব বাড়ি কেবল ভাড়ার জালিয়াতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গাঁজা চাষ, অবৈধ কার্যক্রম এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা এই জালিয়াতিকে আরও গুরুতর করে তুলছে।
পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত তদন্তের অংশ হিসেবে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে দু’জনকে ৪ সেপ্টেম্বর আটক করা হয়। তবে এখনো কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তদন্তটি সিটি অব লন্ডন পুলিশের ডোমেস্টিক করাপশন ইউনিট পরিচালনা করছে।
বার্কিং ও ড্যাগেনহ্যাম কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে তদন্তটি তাদের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন বেসরকারি আবাসন কোম্পানি B&D Reside-এর মালিকানাধীন সম্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, কাউন্সিলের নিজস্ব হাউজিং স্টকের সঙ্গে নয়। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি কাউন্সিলের বৃহৎ পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সাশ্রয়ী আবাসন ভাড়া ও বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে।
লোকাল ডেমোক্র্যাসি রিপোর্টিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এসব পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউন্সিল প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া ও বিক্রির আয় থেকে পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাউন্সিলের কাউন্টার-ফ্রড ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপক কেভিন কী জানান, একাধিক আবাসিক ব্লক এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত B&D Reside-এর ১২টি জালিয়াতির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া বাড়ি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু আবেদনকারী ভুয়া নথি ব্যবহার করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত বাড়ি দখল করেছে, আবার কেউ বৈধ নথি ব্যবহার করেও সেখানে বসবাস না করে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু সম্পত্তি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়েছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে “অনৈতিক ও অমানবিক” বলে মন্তব্য করেন কাউন্সিলর রকি গিল।
ডোমেস্টিক করাপশন ইউনিটের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর অ্যাডাম মাস্কেল জানান, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল এবং এতে বিপুল সংখ্যক নথি ও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা যাচাই করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মূল হোতাদের শনাক্ত করাই এই তদন্তের প্রধান লক্ষ্য এবং এ কাজে স্থানীয় সরকার অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পুলিশ।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

