হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা এবং জেট জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার দেশের বিমান চলাচল খাত নিয়ে নতুন হালনাগাদ নির্দেশনা জারি করেছে। সরকার জানিয়েছে, জেট জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট বাতিলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির পরিবহন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে জেট জ্বালানির সরাসরি কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বিমান সংস্থাগুলো আগাম জ্বালানি কিনে রাখে এবং বিমানবন্দরগুলোও পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি হলে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে সরকার সতর্ক রয়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং এর জেরে ইরান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি বিমান খাতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, যাত্রীদের আপাতত ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত হতে এবং যথাযথ ভ্রমণ বীমা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ‘ব্যবহার করো, না হলে হারাও’ নীতিতে সাময়িক শিথিলতা আনা হয়েছে।
সাধারণত যুক্তরাজ্যের বড় বিমানবন্দরগুলোতে নির্ধারিত উড্ডয়ন ও অবতরণ সময়সূচি বা ‘স্লট’ ধরে রাখতে একটি মৌসুমে অন্তত ৮০ শতাংশ ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকে। কিন্তু জ্বালানি ঘাটতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব না হলে এখন সেই স্লট হারানোর ঝুঁকি থাকবে না।
স্লট ব্যবস্থাপনা তদারককারী স্বাধীন সংস্থা এয়ারপোর্ট কোঅর্ডিনেশন লিমিটেড তাদের নির্দেশনা হালনাগাদ করে জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে বিমান সংস্থাগুলো বিশেষ অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারবে।
সরকার বলছে, পরিবারগুলোর উদ্বেগ তারা বুঝতে পারছে এবং বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের ব্যবসাগুলো কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছে। এজন্য সরকার বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
এদিকে বড় বিমান সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট সূচি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। জেট২-এর এক মুখপাত্র বলেন, তারা নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নির্ধারিত ফ্লাইট ও ছুটির প্যাকেজ পরিচালনায় কোনো বাধা দেখছেন না।
প্রতিষ্ঠানটি আরও ঘোষণা দিয়েছে, জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে তারা কোনো অতিরিক্ত সারচার্জ আরোপ করবে না। অর্থাৎ আগে থেকে বুকিং করা যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।
জেট২-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ হিপি বলেন, ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা মানুষদের অতিরিক্ত খরচের চিন্তা ছাড়াই নিশ্চিন্তে বুকিং করার সুযোগ থাকা উচিত। তাদের মতে, মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই গ্রাহকদের প্রতি সঠিক দায়িত্ব।
জানা গেছে, ভার্জিন আটলান্টিক এবং ইজি জেটও স্বাভাবিকভাবেই ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপের বিমান চলাচল খাতে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত যুক্তরাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগাম প্রস্তুতি এবং নীতিগত নমনীয়তার পথেই এগোচ্ছে।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

