28.2 C
London
May 25, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকিঃ স্কুল-বৃদ্ধাশ্রমে জরুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দাবি

রেকর্ড মাত্রার তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্য। বাড়ছে গরমজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের বাসস্থানে জরুরি ভিত্তিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জলবায়ু কর্মী ও নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু আন্দোলনকারীরা বলছেন, কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসালেই হবে না, সেগুলো চালাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়াতে হবে। এতে একদিকে যেমন তীব্র গরম মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে অতিরিক্ত গরমজনিত কারণে প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গরমজনিত মৃত্যুর হার প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধির ফলে ইউরোপের দেশগুলো দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে এবং যুক্তরাজ্য এখনো সেই বাস্তবতার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ইংল্যান্ডের অধিকাংশ বাড়িতে গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়, যা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের সহযোগী পরিচালক স্যাম আলভিস বলেন, চরম আবহাওয়া এখন যুক্তরাজ্যের জন্য বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। তার মতে, সরকার যথাসময়ে প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী সেই পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে।

তিনি বলেন, “চরম গরম শিশুদের পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলছে, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনেও সমস্যা তৈরি করছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও জরুরি।”

জলবায়ুবিষয়ক সংগঠনগুলোর মতে, স্কুল ও সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালানো গেলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। কারণ তাপপ্রবাহের সময় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার জাতীয় গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, যেসব এলাকায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বেশি, সেখানে তাপপ্রবাহের মধ্যেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার গ্যাসনির্ভর গৃহ উষ্ণায়ন ব্যবস্থা কমিয়ে তাপ পাম্প ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। নতুন ধরনের বায়ুচালিত তাপ পাম্প গ্রীষ্মে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সম্প্রতি সরকার এমন প্রযুক্তির জন্য অনুদান সুবিধাও সম্প্রসারণ করেছে।

তবে কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন সতর্ক করে বলছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎনির্ভর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। তাদের মতে, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও কমিউনিটি সেন্টারে শীতল আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ’-এর বিজ্ঞান ও গবেষণা বিভাগের প্রধান মাইক চাইল্ডস বলেন, “শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন বাস্তব প্রয়োজন হয়ে উঠছে। তবে এগুলো অবশ্যই সবুজ জ্বালানিচালিত হতে হবে। একইসঙ্গে বাড়িঘরের তাপ নিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, যাতে গ্রীষ্মে ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখন আর শুধু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়; বরং তাৎক্ষণিক অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও জনসুরক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণই হয়ে উঠেছে সময়ের দাবি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের বাজেটের বড় অংশ আসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিকট হতে

ব্রিটিশ ক্যাম্পাসে ইউএই শিক্ষার্থী কমছেঃ পেছনে মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধ

দুবাইয়ে স্থায়ী হচ্ছেন সাবেক ইংল্যান্ড তারকাঃ যুক্তরাজ্যের করব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা