যুক্তরাজ্যে রোগীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন হারানো এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাবেক চিকিৎসককে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এবং পরে যৌন অসদাচরণ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ শুনানির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সুদহীর শাবির, বর্তমানে উত্তর ইংল্যান্ডের ক্যাল্ডারডেল এলাকার উনিশটি চিকিৎসাকেন্দ্র নিয়ে গঠিত একটি স্বাস্থ্যসেবা জোটে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের একটি যৌন অসদাচরণ অভিযোগের শুনানিতেও সভাপতির ভূমিকা পালন করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত দুই হাজার উনিশ সালের তেইশ সেপ্টেম্বর। গলা ব্যথা ও মাথা ঘোরার অভিযোগ নিয়ে এক নারী রোগী চিকিৎসা নিতে গেলে শাবির তার স্তনের নিচের অংশে হাত দিয়ে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই নারী বিষয়টি নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বললে মা তাকে জানান, এমন পরীক্ষা স্বাভাবিক চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ নয়। এরপর তিনি চিকিৎসাকেন্দ্রে অভিযোগ করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ ও চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছেও বিষয়টি জানান।
তদন্তে দেখা যায়, ওই রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বুক পরীক্ষা করার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না। এছাড়া রোগীর মৌখিক সম্মতি নেওয়া হয়নি, কোনো সহকারী উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি, পরীক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হয়নি এবং ঘটনাটি চিকিৎসা নথিতেও লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে জানায়, শাবিরের কর্মকাণ্ড যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং তা একজন চিকিৎসকের প্রত্যাশিত পেশাগত মানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই আচরণ চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তার চিকিৎসক নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
পরে তিনি উচ্চ আদালতে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আদালত ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখে এবং তার আবেদন খারিজ করে দেয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক কর্মীর দাবি, চলতি বছরের আগে পর্যন্ত তারা শাবিরের অতীত সম্পর্কে জানতেন না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিশেষ করে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, এমন অতীত থাকা একজন ব্যক্তিকে নারীপ্রধান কর্মপরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তবে স্বাস্থ্যসেবা জোটটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং সুরক্ষাবিষয়ক ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তাদের দাবি, শৃঙ্খলাবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত মানবসম্পদ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া, রোগী সুরক্ষা এবং যৌন অসদাচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে জনমনে প্রশ্ন ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি মেইল
এম.কে

