22.6 C
London
August 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে পানির সংকট ও হোস পাইপ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে দায়ী করল রিফর্ম

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চলমান খরা এবং লাখো মানুষের ওপর জারি হওয়া বাগানের পাইপ দিয়ে পানি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা এবার নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম দল দাবি করেছে, দীর্ঘদিনের গণঅভিবাসনের কারণে দেশের অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে এবং তারই ফল হিসেবে আজকের পানি সংকট তৈরি হয়েছে।

দলটির প্রকাশিত নতুন নীতিপত্রে বলা হয়েছে, গত ১৪ বছরে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনের কারণে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যাপ্তভাবে সম্প্রসারিত হয়নি। তাদের ভাষায়, একটি সমৃদ্ধ দেশে গ্রীষ্মকালে মানুষের বাগানের পাইপ বন্ধ রাখতে হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে না।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯০ বছরের মধ্যে চলতি জুলাই ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই। অনেক এলাকায় টানা ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চল এবং পুরো ওয়েলসে খরা ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির পর একাধিক পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাগানের পাইপ দিয়ে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অ্যাফিনিটি, অ্যাংলিয়ান, কেমব্রিজ, এসেক্স ও সাফোক, সাউদার্ন, সাউথ ইস্ট, সাউথ ওয়েস্ট, টেমস এবং ওয়েলশ পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।

পানি সংকট মোকাবিলায় রিফর্ম দল বলেছে, ক্ষমতায় গেলে তারা ২০৩৮ সালের মধ্যে সরকারি পানি ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য বাতিল করবে। পাশাপাশি যতগুলো প্রয়োজন ততগুলো জলাধার নির্মাণ এবং নতুন জলাধার অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

এদিকে সরকারও পানি সংরক্ষণে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে কয়েকটি বড় জলাধার প্রকল্পকে দ্রুত অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের নিজস্ব জমিতে জলাধার নির্মাণ সহজ করতে নতুন ব্যবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে।

রিফর্ম দল শুধু পানি নীতিতেই নয়, জলবায়ু নীতিতেও ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। দলটি ক্ষমতায় গেলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সরকারি লক্ষ্য বাতিল করে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেছে। দলটির উপনেতা রিচার্ড টাইস মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তবে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ এবং বর্তমান খরা ও চরম আবহাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সূত্রঃ মেট্রো

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে স্ত্রী’কে ২০০ টুকরো করল এক যুবক

২০২০ সালে ব্রিটেনের এক-চতুর্থাংশ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল!

“খুব শিগগিরই ৪ ইঞ্চি বরফে ঢেকে যাবে লন্ডন”

অনলাইন ডেস্ক