11.3 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ পাউন্ড খরচঃ অভিবাসন মামলায় ফুলেফেঁপে উঠছে আইনজীবীরা

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, যেখানে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড ট্যাক্সদাতার অর্থ ব্যয় হচ্ছে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলায় লিগ্যাল এইড প্রদানে। গত এক বছরে এই খাতে মোট ব্যয় ছাড়িয়েছে ৫৪.২ মিলিয়ন পাউন্ড।

এই অর্থ মূলত আইনজীবীদের পেছনে যাচ্ছে, যারা আশ্রয়প্রার্থীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করছেন কিংবা তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার জন্য নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন।

ডাটা অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৫,৭৮৭টি লিগ্যাল এইড আবেদন মঞ্জুর হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কেসে গড় খরচ হয়েছে প্রায় ৮২৭ পাউন্ড। আইনজীবীরা প্রতি ঘণ্টায় ৫২ পাউন্ড ফি পাচ্ছেন, এমনকি অনেক সময় এমন মামলাতেও যেখানে আবেদনকারীর কোনো বাস্তবসম্মত ভিত্তি নেই।

একটি আলোচিত উদাহরণ হচ্ছে পোলিশ নাগরিক কনরাড মাককি, যিনি নারী নির্যাতনের অভিযোগে দণ্ডিত হলেও মানবাধিকার আইনের আশ্রয়ে দাবি করেছেন, তিনি তার জমজ বোনের কাছাকাছি থাকতেই যুক্তরাজ্যে থেকে যেতে চান।

ইমিগ্রেশন ও অ্যাসাইলাম ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার খরচই গত অর্থবছরে পৌঁছেছে ৫৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে, যার মধ্যে ৩১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে আপিল প্রক্রিয়ার স্টাফিং খাতে।

সাবেক মন্ত্রী স্যার অ্যালেক শেলব্রুক বলেছেন, “অনেক আইনজীবী এই ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সরকারের অর্থে নিজেদের আয় বাড়াচ্ছেন। আমি সন্দেহ করি যে লেবার নেতা ও ‘লেফটিস্ট’ আইনজীবী স্যার কেয়ার স্টার্মার তার নিজের পেশার বন্ধুদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবেন।”

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, “আমরা এই ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জোরদার করছি এবং অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

জনগণের অর্থে পরিচালিত এই ব্যয়বহুল আইনি লড়াই কতটা ন্যায়সঙ্গত এবং কার্যকর — তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন তুলছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে
০৯ জুন ২০২৫

আরো পড়ুন

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

কিয়ার স্টারমারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংস্কার

অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে যুক্তরাজ্যের বাড়িভাড়া