TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রতি ৮ মিনিটে একজন পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত

যুক্তরাজ্যে প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রকোপ নিয়ে নতুন পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্টের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর ৬৮ হাজারেরও বেশি পুরুষ নতুন করে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন—যার অর্থ গড়ে প্রতি আট মিনিটে একজন পুরুষের নতুন করে এই রোগ ধরা পড়ছে। প্রোস্টেট ক্যানসার বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার।

ম্যাকমিলানের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ পুরুষ প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। অর্থাৎ মাত্র ছয় বছরে রোগটি নিয়ে বসবাসকারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে একটি মাত্র কারণ দায়ী নয়। যুক্তরাজ্যের বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এর অন্যতম বড় কারণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। পাশাপাশি রোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে উন্নতির কারণে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং চিকিৎসার পর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন।

ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্ট সতর্ক করেছে, প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা পুরুষদের পরীক্ষা করাতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—শরীরে কোনো উপসর্গ না থাকলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই বিকশিত হতে পারে এবং বহু বছর পর্যন্ত লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে।

ম্যাকমিলানের জাতীয় ক্লিনিক্যাল উপদেষ্টা ডা. অ্যান্থনি কানলিফ জানিয়েছেন, প্রোস্টেট ক্যানসার সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে আরও কম বয়সেও এটি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং যাদের পরিবারে প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

রোগের লক্ষণ দেখা দিলে প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা হওয়া, স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া—বিশেষ করে রাতে—প্রস্রাবের পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি বলে মনে হওয়া, হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ এবং প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত দেখা যেতে পারে। তবে এসব লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে।

ঝুঁকি বা উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পর পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পিএসএ রক্ত পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে প্রোস্টেট পরীক্ষা করেও অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

তবে যুক্তরাজ্যে বর্তমানে সব পুরুষের জন্য নিয়মিত পিএসএ পরীক্ষার ভিত্তিতে জাতীয় প্রোস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি নেই। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্ক্রিনিং কমিটি সব পুরুষকে পিএসএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করার সুপারিশ করেনি। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট জিনগত ঝুঁকি থাকা কিছু পুরুষের স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করা হয়েছে এবং যোগ্য কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের নিয়ে একটি স্ক্রিনিং পরীক্ষাও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও এর একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে—উন্নত চিকিৎসার কারণে আগের তুলনায় অনেক বেশি পুরুষ রোগ নির্ণয়ের পর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারছেন। ফলে বর্তমানে রোগটি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

ম্যাকমিলান পুরুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, নিজের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে নতুন এই পরিসংখ্যান যুক্তরাজ্যে প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান চাপের চিত্র তুলে ধরছে—প্রতি আট মিনিটে একটি নতুন রোগ নির্ণয় এবং বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ পুরুষের এই রোগ নিয়ে বসবাস স্বাস্থ্যসেবার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

অবৈধ অভিবাসীদের রুয়ান্ডা প্রেরণ কার্যক্রমে বিক্ষোভকারীদের বাধা

নিজেদের স্বার্থে টিউলিপকে মন্ত্রী বানায় লেবার পার্টি’

যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুলসে নতুন সংশোধনঃ ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর