TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ফজরের নামাজ পড়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না ১৬ বছরের ইসমাইলেরঃ গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে ভোরের নামাজ শেষে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় ১৬ বছর বয়সী কিশোর মুহাম্মদ ইসমাইল আলমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

জানা গেছে, ইসমাইল ভোরের নামাজ আদায়ের জন্য বার্মিংহামের গ্রিন লেন মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন। ফজরের নামাজ আদায় শেষে সাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে ক্যাটেল রোড ও টেম্পলফিল্ড স্ট্রিটের কাছে একটি গাড়ির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

দুর্ঘটনাটি বার্মিংহাম সিটির ফুটবল মাঠের কাছাকাছি এলাকায় ঘটে। মাত্র কয়েক মিনিট আগেও যে কিশোরটি মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন, তারই এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

ইসমাইল পড়াশোনা করতেন দারুল উলুম বার্মিংহাম ইসলামিক হাই স্কুলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন অসাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইসমাইল পুরো কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। কোরআন তিলাওয়াদে তার দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দুটি আনুষ্ঠানিক সনদও অর্জন করেছিলেন। পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তার সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য।

জিসিএসই পরীক্ষায় তিনি অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছিলেন। শুধু নিজের পড়াশোনা ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না ইসমাইল; অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় আয়োজিত বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

স্কুলের ডেপুটি হেড শিক্ষক হাম্মাদ আজহার ইসমাইলের চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তাকে অত্যন্ত সম্মানজনক, দৃঢ়চেতা এবং অন্যদের প্রতি গভীরভাবে যত্নশীল একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হাম্মাদ আজহার বলেন, এত অল্প বয়সে ইসমাইল অনেক কিছু অর্জন করলেও তিনি কখনো অহংকারী হয়ে ওঠেননি। বরং সবসময় বিনয়ী, ভদ্র এবং মাটির কাছাকাছি ছিলেন।

তার আচরণের মধ্যেই ইসমাইলের মানবিকতার প্রকাশ ঘটত বলে জানান শিক্ষকরা। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং করমর্দন করতেন। কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তিনি পুরো মনোযোগ দিয়ে সেই ব্যক্তির কথা শুনতেন।

হাম্মাদ আজহারের ভাষায়, ইসমাইলের মধ্যে এমন একটি স্বাভাবিক গুণ ছিল, যার মাধ্যমে তিনি অন্য মানুষকে অনুভব করাতে পারতেন যে তারা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, সম্মানিত এবং মূল্যবান।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে একজন কিশোর হিসেবে ধর্মীয় শিক্ষা, একাডেমিক সাফল্য এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে ইসমাইলের অর্জন তাকে তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।

তার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে দারুল উলুম বার্মিংহাম ইসলামিক হাই স্কুল। একই সঙ্গে ইসমাইলের পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফজরের নামাজ আদায় করে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইসমাইলের জীবন থেমে যাওয়ার ঘটনায় তার পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। অল্প বয়সে তার অর্জন ও মানুষের প্রতি তার সহানুভূতিশীল আচরণের স্মৃতি এখন পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে বেদনার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ব্রিটেনের রানির অভিনন্দন

যুক্তরাজ্যে অপরাধ নয় এমন ‘হেট ইনসিডেন্ট’ তদন্ত বন্ধ করবে মেট পুলিশ

স্থুলতা মহামারী আকার ধারন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে