6.7 C
London
February 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বরখাস্ত অবস্থায় সিক নোট বিক্রিঃ জিএমসির কঠোর শাস্তির মুখে এক চিকিৎসক

ভুয়া সিক নোট বিক্রি ও সামাজিক মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে ব্রিটেনের চিকিৎসা পেশা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হয়েছেন ডা. আসিফ মুনাফ। জেনারেল মেডিক্যাল কাউন্সিলের (জিএমসি) আবেদনের পর মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল সার্ভিস (এমপিটিএস) এই সিদ্ধান্ত দেয়। এর ফলে তিনি আর কখনো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না কিংবা নিজেকে নিবন্ধিত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।

 

৩৭ বছর বয়সী আসিফ মুনাফ, যিনি বিবিসির দ্য অ্যাপ্রেন্টিস অনুষ্ঠানের সাবেক প্রতিযোগী, এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী কনটেন্ট প্রকাশের কারণে সাময়িকভাবে চিকিৎসা নিবন্ধন থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে জানায়, তার অনলাইন পোস্টগুলো ছিল প্রকাশ্যভাবে বৈষম্যমূলক ও আপত্তিকর, যা চিকিৎসা পেশার নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

শুনানিতে আরও উঠে আসে, একটি হাসপাতালে লোকাম শিফটে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোনো সহকর্মীকে না জানিয়ে কাজ ছেড়ে চলে যান তিনি, যা রোগীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। ট্রাইব্যুনাল এই আচরণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পেশাগত শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়—চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান ডা. সিক লিমিটেড–এর মাধ্যমে একটি সিক নোট ইস্যু করা। ওই নোটের জন্য একজন রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয় এবং তাতে তার স্বাক্ষর ও জিএমসি নম্বর ব্যবহার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের মতে, এটি ছিল সচেতন ও ইচ্ছাকৃত অসততা।

রায়ে বলা হয়, আসিফ মুনাফের আচরণ রোগী ও সহকর্মীদের প্রতি “দাম্ভিক অবহেলা” প্রকাশ করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি উদ্বেগজনক। নিজের কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক চরম ইহুদিবিদ্বেষী পোস্ট করেন। এসব পোস্টে তিনি ইহুদিদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও ঘৃণামূলক মন্তব্য করেন, যা জিএমসির ভাষায় “বস্তুনিষ্ঠভাবে ইহুদিবিদ্বেষী ও মারাত্মকভাবে আপত্তিকর”।
আসিফ মুনাফ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো আইনজীবীর মাধ্যমেও নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করাননি।

জিএমসি জানায়, তিনি পুরো প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন।
ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দেয়, তার আচরণ চিকিৎসা নিবন্ধন বহাল রাখার সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পেশার সুনাম রক্ষায় ‘ইরেজার’ বা স্থায়ীভাবে নিবন্ধন বাতিলই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

জিএমসির এক মুখপাত্র বলেন, চিকিৎসা পেশায় ইহুদিবিদ্বেষ, বৈষম্য বা ঘৃণামূলক আচরণের কোনো স্থান নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনের যে এলাকাটিতে কমেছে বাড়ির দাম, ফ্ল্যাটের দামও সহনীয়

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশ থেকে কেবল ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা ওমরায় যেতে পারবেন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্য সরকার ডিসেবল লোকেদের কাজে যেতে বাধ্য করার পরিকল্পনা করছেঃ দাতব্য সংস্থা