TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিদেশি বন্দিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা রিফর্ম ইউকের

যুক্তরাজ্যে কারাগারের ধারণক্ষমতা সংকট এবং আগাম বন্দি মুক্তি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল রিফর্ম ইউকে। দলটি ঘোষণা করেছে, ক্ষমতায় এলে যুক্তরাজ্যের কারাগারে থাকা সব বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এতে কারাগারে অতিরিক্ত জায়গা তৈরি হবে এবং আগাম বন্দি মুক্তির প্রয়োজনীয়তা দূর হবে বলে দাবি করেছে দলটি।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা আগাম বন্দি মুক্তির কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার নীতিটি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করবে এবং সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে না।

এই ঘোষণার পরই রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, কনজারভেটিভ সরকার ১৪ বছরে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু একই সময়ে কারাগারে মাত্র ৪৫৫টি নতুন স্থান যোগ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, বর্তমান লেবার সরকারও সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

জিয়া ইউসুফ বলেন, রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে যুক্তরাজ্যের কারাগারে থাকা সব বিদেশি বন্দিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এতে কারাগারে পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হবে এবং সহিংস অপরাধীদের সাজা শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।

এছাড়া দলটি অপরাধ দমনে আরও কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রিফর্ম ইউকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্ট চালু করা হবে, পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর সাজা দেওয়া হবে এবং গুরুতর সহিংস অপরাধ, যৌন অপরাধ ও ছুরি বহনের অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে আগাম মুক্তির সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।

দলটি আরও জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (MoD) মালিকানাধীন জমিতে নতুন কারাগার নির্মাণ করে ১৮ মাসের মধ্যে ১২ হাজার ৪০০টি নতুন কারাগারের স্থান তৈরি করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কারাগারের ধারণক্ষমতা সংকট, আগাম বন্দি মুক্তি এবং বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে। রিফর্ম ইউকের সর্বশেষ প্রস্তাব আইন-শৃঙ্খলা ও অভিবাসন নীতিতে দলটির কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আইনি, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুদ্ধসহ বড় ধাক্কায় বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাঃ রিপোর্ট

সংক্রমিত রক্ত কেলেঙ্কারি, বৃটিশ পার্লামেন্টে প্রথম পরাজয় প্রধানমন্ত্রী সুনাকের

কেয়ার ওয়ার্কারদের পক্ষে লেবার নেত্রী রেইনার; বললেন, ‘মাঝপথে নিয়ম বদলানো অন্যায্য’