9.6 C
London
February 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে সুদূর যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আদালতে। দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী কয়েক হাজার বাংলাদেশি ও তাদের পরিবার এখন চরম আইনি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিশাল বিজয় এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান এই সংকটের মূলে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতার এই পালাবদলের ফলে ব্রিটিশ হোম অফিস এখন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক দাবি করে আবেদন করা বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের ভিত্তি নিয়ে কঠোর পর্যালোচনা শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের মূল ভিত্তি হলো নিজ দেশে রাজনৈতিক কারণে ‘সুনির্দিষ্ট নিপীড়নের ভয়’। গত দেড় দশকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি দাবি করেছিলেন যে, বিএনপি বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েছেন। কিন্তু এখন সেই দলগুলোই ক্ষমতায় থাকায় তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি আইনজীবীদের মতে, ‘নিপীড়নকারী’ পক্ষ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন সরাসরি ‘নিপীড়িত’ পক্ষ ক্ষমতায় আসায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে বলে গণ্য হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুলস-এর ৩৩৯এ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তির নিজ দেশের পরিস্থিতির এমন মৌলিক ও স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে যার ফলে তার আর সুরক্ষার প্রয়োজন নেই, তবে হোম অফিস তার ‘রিফিউজি স্ট্যাটাস’ বাতিল করতে পারে। এ ছাড়া ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১সি (৫) অনুযায়ী, যে পরিস্থিতির কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল তার অবসান ঘটলে শরণার্থী মর্যাদা আর বজায় থাকে না।

হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালেও যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনকারী শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে মোট ৭ হাজার ২২৫ জন বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার একটি ব্যাপক বিতাড়ন কর্মসূচি শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই ধরনের আইনি জটিলতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতেও। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা এখন দ্রুত কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকৃত নির্যাতিত নেতাকর্মীদের তারা সহযোগিতা করেছেন। তবে এখন ব্রিটিশ সরকার পেন্ডিং আবেদনগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা দাবি করেন, প্রতিটি মামলার স্বতন্ত্র ভিত্তি থাকে। তার মতে, আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে না থাকলেও জামায়াত নেতাকর্মীরা এখনও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

বিপরীত এক চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন, যাদের অনেকের আবেদন ইতোমধ্যে মঞ্জুর করেছে হোম অফিস।

সূত্রঃ ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া পূর্বাভাসে ঝড় লিলিয়ানের আশঙ্কা

২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ইস্যু ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছেঃ ন্যাশনাল অডিট অফিস

স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসায় বেতন জটিলতাঃ যুক্তরাজ্য ছাড়তে বাধ্য হিল্ডা কোয়োফি