যুক্তরাজ্যে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। চলতি বছরেরই বেকারত্ব ভাতা ও কর্মক্ষমতা-সম্পর্কিত সহায়তা ব্যবস্থায় সংস্কারের চূড়ান্ত প্রস্তাব ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারের কর্ম ও পেনশনবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত বাড়তে থাকা ভাতা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহিত করাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য একটি স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদনের সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকার মনে করে তরুণদের জন্য কাজ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে সেই সুযোগ দেওয়া হলে তা গ্রহণের ক্ষেত্রেও নাগরিকদের দায়িত্ব থাকা উচিত। সরকারের ভাষায়, এটি তরুণদের জন্য যেমন উপকারী হবে, তেমনি দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে।
জানা গেছে, স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদনের প্রথম ধাপে খতিয়ে দেখা হয়েছে কেন প্রতিবন্ধী, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে এই সমস্যার সমাধানে কী ধরনের নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়ে সুপারিশ করা হবে। সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন শরৎকালে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কিছু ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ, চাকরি খোঁজার কার্যক্রমে যুক্ত থাকা অথবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়ার মতো নতুন শর্ত যুক্ত হতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের লক্ষ্য শুধু ভাতা প্রদান নয়; বরং যারা স্বাস্থ্যগত বা সামাজিক কারণে কর্মজীবন থেকে দূরে রয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সহায়তার মাধ্যমে আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় সরকার।
তবে সম্ভাব্য এই সংস্কার নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, নতুন নীতি প্রণয়নের সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ মানুষ এবং বাস্তবিকভাবে কর্মক্ষম নন—এমন ব্যক্তিদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার জানিয়েছে, স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশের পর সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে ভাতা সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। তখনই স্পষ্ট হবে নতুন নিয়ম কারা, কীভাবে এবং কখন থেকে কার্যকর হবে।
সূত্রঃ ইয়র্কশায়ার লাইভ
এম.কে

