ব্রিটেনে অভিবাসন নীতি কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়ে নিজ দল লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের চাপের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। বিদেশি কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার পরিকল্পনা শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। এ নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১৫ বছর বসবাসের পর স্থায়ী হওয়ার প্রস্তাব থেকে পরিচর্যা খাতের কর্মীদের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে আবাসন মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং জ্বালানি মন্ত্রী মিয়াট্টা ফানবুলেহ প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন।
অ্যাঞ্জেলা রেনার এর আগে প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ এবং ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার যুক্তি, ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের সেবা দিতে ব্রিটেনে আসা পরিচর্যা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন করা অন্যায্য।
জ্বালানি মন্ত্রী মিয়াট্টা ফানবুলেহও সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে বারবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য করলে স্থানীয় সমাজে তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের একটি বড় অংশ চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারেন। এতে ব্রিটেনের পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকট আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে শাবানা মাহমুদের একজন সমর্থক দ্য টাইমসকে জানিয়েছেন, আইএলআর নিয়ে এই বিরোধে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পক্ষেই রয়েছেন। ওই সহযোগীর ভাষ্য, “এই বিরোধের শুরু থেকেই অ্যান্ডি শাবানার পাশে রয়েছেন। তিনি নিজের অবস্থানে অটল আছেন।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলো আগামী মাসেই পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হতে পারে। লেবার পার্টির প্রায় ১০০ জন এমপি এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ৮০ জন এমপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে সংস্কার পরিকল্পনা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
চিঠিতে এমপিরা বলেন, নিয়ম মেনে ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের লক্ষ্য করে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ এবং আগের নিয়মের ক্ষেত্রে পশ্চাৎমুখী পরিবর্তন ন্যায্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় না। তাদের মতে, স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করার কারণে সরকারের রাজনৈতিক সমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে শাবানা মাহমুদ এর আগে এলবিসি রেডিওকে বলেছিলেন, তার প্রস্তাবের সঙ্গে সবাই একমত হবেন না—এটি তিনি মেনে নিচ্ছেন। তবে পার্লামেন্টে সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরার সময় অধিকাংশ সহকর্মী প্রস্তাবগুলোর প্রয়োজনীয়তা বুঝেছেন এবং সমর্থন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছর থেকে ১৫ বছরে আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি প্রস্তাবিত সংস্কারের অংশ; এটিকে বর্তমানে কার্যকর চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং কোন কোন শ্রেণির অভিবাসী ছাড় পাবেন, তা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত ও পার্লামেন্টের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ \ দ্য টাইমস
এমকে

