29.6 C
London
June 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভাঙলে নির্যাতনের প্রমাণে মিলতে পারে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি

যুক্তরাজ্যে গৃহ নির্যাতনের শিকার অভিবাসীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ধরনের ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা কোনো ব্যক্তি যদি ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের কারণে তার বৈবাহিক বা পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার শিকার হন, তবে তিনি বিশেষ বিধানের আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ডমোস্টিক ভায়োল্যান্স শুধু শারীরিক বা যৌন সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক নির্যাতন, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, জোরপূর্বক আচরণ, চলাফেরায় বাধা, হুমকি এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণও ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের আওতায় পড়ে। এমনকি নির্যাতন কেবল স্বামী বা স্ত্রীর কাছ থেকেই হতে হবে এমন নয়; শ্বশুর-শাশুড়ি, বাবা-মা, ভাই-বোন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নির্যাতনও এই সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

নির্দেশিকায় একটি উদাহরণে দেখানো হয়েছে, একজন নারীর উপার্জিত অর্থ তার শাশুড়ি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেন, ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং বাড়ি থেকে বের হতে দেন না। যদিও সেখানে শারীরিক নির্যাতন ছিল না, তবুও এই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণকে ডমোস্টিক ভায়োল্যান্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিক, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য অথবা নির্দিষ্ট কিছু যোগ্য ব্যক্তির সঙ্গী হিসেবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারীরা ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের কারণে সম্পর্ক ভেঙে গেলে স্থায়ীভাবে থাকার আবেদন করতে পারবেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

তবে যারা কেবল বাগদত্তা বা বাগদত্তা ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং এখনও স্বামী-স্ত্রীর ভিসায় পরিবর্তন করেননি, তারা সাধারণ নিয়মে এই সুবিধা পাবেন না। যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে হোম অফিস অভিবাসন বিধির বাইরে থেকেও আবেদন বিবেচনা করতে পারে, বিশেষ করে যদি নির্যাতনকারী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুক্তভোগীর অভিবাসন মর্যাদা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

অন্যদিকে, স্টুডেন্ট ভিসা বা স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীর নির্ভরশীল হিসেবে যুক্তরাজ্যে থাকা ব্যক্তিরা এই নির্দিষ্ট বিধানের আওতায় আবেদন করতে পারবেন না। তবে তাদের ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদন বা মানবিক সুরক্ষার মতো অন্য আইনি পথ খোলা থাকতে পারে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অনেক ভুক্তভোগী ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু অধিকাংশ অভিবাসীর ভিসায় সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ‘মাইগ্র্যান্ট ভিকটিমস অব ডোমেস্টিক অ্যাবিউজ কনসেশন’-এর আওতায় তিন মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা প্রয়োজনে স্থায়ীভাবে থাকার জন্যও আবেদন করতে পারবেন।

স্থায়ীভাবে থাকার আবেদনের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র ব্যবহার, বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান, পরিচয়পত্র জমা এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধের বিধান রয়েছে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নির্যাতনের কারণে ফি পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিরা ফি মওকুফের আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশি রেকর্ড, আদালতের আদেশ, চিকিৎসা নথি, আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিবেদন, সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থার মূল্যায়ন এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি মামলায় সব ধরনের প্রমাণ একসঙ্গে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে সম্পর্কটি ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের কারণেই ভেঙে গেছে কি না।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী যদি স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আবেদন করেন, তাহলে তার ওপর নির্ভরশীল অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একই আবেদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

তবে এই ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে সাধারণভাবে অভিবাসন ট্রাইব্যুনালে আপিলের অধিকার থাকে না। পরিবর্তে প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা বা প্রয়োজনে বিচারিক পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের শিকার অভিবাসীদের জন্য আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও সহায়তা হেল্পলাইন নারী, পুরুষ এবং এলজিবিটিকিউ+ ভুক্তভোগীদের জন্য গোপনীয় পরামর্শ, আশ্রয় এবং আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অভিবাসন মর্যাদা যেন নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাজ্যের এই বিশেষ অভিবাসন বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভঃ ১২ জন গ্রেপ্তার

টনি ব্লেয়ার গাজার অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান হওয়ার প্রস্তাবনায়

৪ মাসে একবার বিছানার চাদর পাল্টান ব্রিটেনের অবিবাহিত পুরুষরা