11.7 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লেবার সরকারের কড়াকড়িঃ অবৈধ শ্রমিক ধরতে অভিযান বাড়ছে

লেবার পার্টি সরকারে আসার পর যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গত এক বছরে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। হোম অফিস প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে ৬,৪১০ জন অভিবাসীকে অবৈধ শ্রমের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

লেবার সরকারের ‘প্ল্যান ফর চেইঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় রেস্তোরাঁ, নেইল বার, নির্মাণ সাইটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই সময়কালে ৯,০০০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা আগের কনজারভেটিভ সরকারের তুলনায় ৪৮% বেশি।

আলোচিত অভিযানগুলো:

*বেলফাস্টের টাইটানিক কোয়ার্টারে নির্মাণ সাইট থেকে একসাথে ৩৬ জন গ্রেফতার।

*সারে (Surrey)-তে ক্যারাভান পার্ক থেকে ৯ জন অবৈধ ডেলিভারি ড্রাইভার গ্রেফতার।

*ব্র্যাডফোর্ডে অবৈধ শ্রমিকদের পিক-আপ পয়েন্ট থেকে আরও ৯ জন গ্রেফতার।

হোম অফিস বলছে, মানব পাচারকারীরা অভিবাসীদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠায়। বাস্তবে এদের অধিকাংশকে অমানবিক পরিবেশে অল্প অথবা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

আইনি ঝুঁকি বাড়ছে নিয়োগদাতাদের জন্যও।
বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে ‘রাইট-টু-ওয়ার্ক চেক’ না করলে নিয়োগদাতাদের হতে পারে প্রতি কর্মীর জন্য £৬০,০০০ জরিমানা, পরিচালকের পদচ্যুতি ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড।

প্রতিবেদন অনুযায়ীঃ

*লেবার সরকার আসার পর ৩০,০০০ অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠানো হয়েছে নিজ দেশে।

*অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে আরও কঠোর আইন আসছে।

*বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে রেস্তোরাঁ, নির্মাণ সাইট ও নেইল বার সেক্টরগুলোর ওপর।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয় মন্ত্রী ডেম অ্যাঞ্জেলা ইগল বলেন,

“যারা অবৈধভাবে আসছেন এবং শোষিত হচ্ছেন, তাদের রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য। অবৈধ শ্রমিক ও তাদের সুবিধাভোগী নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”

ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট প্রধান এডি মন্টগোমারি বলেন,

“আমাদের অভিযানের মাধ্যমে শুধু অপরাধী ধরা পড়ছে না, বরং দুর্বল মানুষদের শোষণ থেকেও রক্ষা করা যাচ্ছে।”

অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার সরকার দেখাতে চাইছে তারা শুধু কথা নয়, কাজেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই অভিযান অভিবাসীদের মানবাধিকার এবং কাজের সুযোগের ওপর চাপ তৈরি করছে — যার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে
৮ জুন ২০২৫

আরো পড়ুন

দল থেকে পদত্যাগ করছেন বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক

যৌন নিপীড়নের জন্য শামীমাকে সিরিয়ায় পাচার করে আইএস: ট্রাইব্যুনালে শুনানি

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সোমবার হতে যেসব পরিবর্তন আসছে