TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের জন্য নতুন বৈধ পথ খুলতে যাচ্ছে সরকার

যুক্তরাজ্যে শরণার্থী ও অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগামী সপ্তাহে নতুন অভিবাসন বিল সংসদে উত্থাপন করবেন, যেখানে একদিকে প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নতুন নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ চালুর ঘোষণা দেওয়া হবে, অন্যদিকে মানবাধিকার ও আধুনিক দাসত্ব আইনের আওতায় অভিবাসন দাবির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, বার্নহ্যাম ক্ষমতায় এলেও শাবানা মাহমুদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন। তবে তার প্রস্তাবিত আশ্রয় নীতি নিয়ে লেবার দলের একাংশ, মানবাধিকার সংগঠন এবং শরণার্থী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।

লেবার দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আলফ ডাবস প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন, নতুন সরকার যেন শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয় এবং তার আশ্রয়নীতি পুনর্বিবেচনা করে। নাৎসি নিপীড়নের সময় শিশু অবস্থায় যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া ডাবস বলেন, লেবার সরকারের উচিত মানবাধিকার, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও বিভাজনমূলক ভাষা পরিহার করা।

এদিকে নতুন বিলে শরণার্থীদের জন্য তিনটি নিরাপদ ও বৈধ পথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কমিউনিটি স্পনসরশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় সংগঠনগুলো নির্দিষ্ট শরণার্থীদের সহায়তা করতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ তৈরি হবে। আগামী বছর থেকে নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে শরণার্থীদের স্পনসর করার ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য শুরুতে বছরে কয়েকশ শরণার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হলেও ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা কয়েক হাজারে উন্নীত করা।

তবে একই সঙ্গে নতুন বিলে একাধিক কঠোর বিধানও রাখা হয়েছে। অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকদের আধুনিক দাসত্ব আইনের সুরক্ষা বাতিল করা হবে। শেষ মুহূর্তে করা আধুনিক দাসত্বের দাবি, যেখানে আগে আবেদন করার সুযোগ ছিল অথবা ভুয়া নথির প্রমাণ পাওয়া যায়, সেসব আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।

এছাড়া পারিবারিক জীবনের অধিকারের ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন কেবল বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে। বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার জনস্বার্থে বলে আইনে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে এবং কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সেই বহিষ্কার ঠেকানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেদন বিদেশে থাকা ব্যক্তি নয়, বরং যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী স্পনসরকে করতে হবে।

মানবপাচার ও শোষণের শিকার প্রতিটি শিশুর জন্য একজন স্বাধীন অভিভাবক নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এর আগে শাবানা মাহমুদ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে দশ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী আসার আগে সেই পরিকল্পনার কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিচর্যা খাতের কর্মীদের এই পরিবর্তনের বাইরে রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিরাপদ ও বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসা শরণার্থীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। ওই সময়ে পুনর্বাসন ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির মাধ্যমে মাত্র ৩ হাজার ৬০০ জন সুরক্ষা পেয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে এবং এখনও তা পুনরায় চালুর কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা হয়নি।

সমালোচকদের দাবি, নিরাপদ ও বৈধ পথ সীমিত থাকায় যুদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার বহু মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।

বিলটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ থাকলেও শাবানা মাহমুদ বলেছেন, তার লক্ষ্য হলো প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য বৈধ পথ উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে এমন একটি আশ্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও টেকসই হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

হরমুজ প্রণালী টোল আমরা দিচ্ছি নাঃ ইরানকে যুক্তরাজ্য

অভিবাসীদের বিতাড়িত করার জন্য আসছে নতুন আইন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের রেকর্ড