ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, রাজা কিং চার্লস থ্রি–এর ভাই বর্তমানে হেফাজতে আছেন এবং তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ জানায়, বার্কশায়ার ও নরফোকের একাধিক ঠিকানায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে সকালে পুলিশের গাড়ি প্রবেশের ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যা চলমান তদন্তের গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
এই পদক্ষেপের আগে থেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছিল, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–এর সঙ্গে গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ তারা পর্যালোচনা করছে।
জানুয়ারিতে প্রকাশিত এপস্টাইন–সংক্রান্ত বিপুল নথি সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু অতীতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি।
সাবেক মেট্রোপলিটন পুলিশ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডাল বাবু বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ বাড়ছিল। তার মতে, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তদন্তকারীরা কম্পিউটার সরঞ্জাম, নথি, আলোকচিত্রসহ সম্ভাব্য প্রমাণ জব্দ করার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেসব স্থাপনা ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করেন, সেগুলোতেও তল্লাশি চালানো যেতে পারে।
পুলিশ বিশ্লেষক ড্যানি শ’ জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক রাখা সম্ভব, তবে এর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—অভিযোগ গঠন করা হবে নাকি অধিকতর তদন্তের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।
শ’ আরও বলেন, হেফাজতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিধান নেই; অন্যদের মতোই তাকে সাধারণ কাস্টডি সেলে রাখা হবে। তবে ঠিক কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা কোথায় রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাটি ব্রিটিশ রাজপরিবারকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ফেলেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এখন দেশজুড়ে তীব্র নজর রয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

