যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের ভিসা নেই—তবুও স্কটিশ সংসদে ইতিহাস গড়েছেন কিউ মানিভান্নান। শুক্রবার এডিনবার্গ পূর্ব লোথিয়ান আসন থেকে স্কটিশ গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসেবে এমএসপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
স্বয়ংক্রিয় ‘নন-বাইনারি ও কুইয়ার তামিল অভিবাসী’ মানিভান্নান সম্প্রতি সহকর্মীদের কাছে অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসার জন্য ২,০৮৯ পাউন্ড চেয়েছিলেন। এই ভিসা পেলে তিনি করদাতার অর্থে ৭৭,৭১১ পাউন্ড বেতনভোগী এমএসপি থাকতে পারবেন। পরে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার জন্য আরও ৫,০৪৭ পাউন্ড প্রয়োজন হবে মানিভান্নানের।
মূলত গত বছর এসএনপি সরকার আইন শিথিল করে বলে, যেকোনো ধরনের ভিসাধারী বিদেশি এমএসপি প্রার্থী হতে পারবেন। এর আগে দরকার ছিল ‘অনির্দিষ্টকাল থাকার অনুমতি’ বা আইএলআর।
নির্বাচিত হয়ে মানিভান্নান বলেন, “এই দেশে ঘৃণাকারীরা যেসব বিষয়কে ঘৃণা করে, আমি তাদের কাছে যেন সেসব কিছুরই প্রতিচ্ছবি। আর আজ আমি আপনাদের এমএসপি হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি—মানুষের প্রতি যত্ন ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে।”
মাইগ্রেশন ওয়াচ গ্রুপ এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করেছে,
“ব্রিটেন বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকদের শুধু ভোটাধিকারই নয়, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী ড. কিউ মানিভান্নান, যিনি স্টুডেন্ট ভিসায় ব্রিটেনে এসেছিলেন, বর্তমানে স্কটল্যান্ডের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।”
বিতর্ক ছড়িয়েছে তার পুরোনো পোস্টেও। ২০২৪ সালে অশভিৎস জাদুঘরকে ‘আনফলো’ এবং ২০২৩ সালে ইসরায়েলি জিম্মির পোস্টার ভাংচুরকে ‘সংহতি’ বলে সমর্থন করেন মানিভান্নান।
গ্রিন পার্টির মুখপাত্র অবশ্য দাবি করেন, “গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে ওই পোস্ট, আর ভাংচুরের সমর্থন কিছু নয়। হামাসের নৃশংসতার নিন্দা আমাদের স্পষ্ট।”
স্কটিশ গ্রিনস এই নির্বাচনে রেকর্ড ১৬ আসন পেয়েছে, যার দুটিতে ট্রান্স প্রার্থী বলে জানা যায়।
(প্রতিবেদনটি দ্য টেলিগ্রাফ ও ডেইলি মেইলের তথ্যভিত্তিক)
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

