TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে হোম অফিসের ইমিগ্রেশন রেইডের বিরুদ্ধে লুইশামের অবস্থাঃ জোট গঠনের উদ্যোগ

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে লন্ডনের লুইশাম কাউন্সিল। গ্রিন পার্টি-নিয়ন্ত্রিত এই কাউন্সিল হোম অফিসের অভিবাসনবিরোধী অভিযান (ইমিগ্রেশন রেইড) পরিচালনায় সহযোগিতা না করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে তারা শুধু নিজেদের অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং অন্যান্য স্থানীয় কাউন্সিলকেও একই ধরনের অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করে একটি সমন্বিত ‘অ্যান্টি-রেইডস সাংচুয়ারি করিডর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এটি যুক্তরাজ্যে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, লুইশাম কাউন্সিল হোম অফিসের অভিবাসন আইন প্রয়োগে তাদের বর্তমান সহযোগিতার সব দিক পর্যালোচনা করবে এবং যেখানে আইনগতভাবে সম্ভব, সেখানে সেই সহযোগিতা বন্ধ করবে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের আওতায় অভিবাসন অভিযানে ডেটা শেয়ারিং, কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদ বা অন্যান্য প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বর্ডার ফোর্স লুইশাম এলাকায় অভিবাসন অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীদের করা ফ্রিডম অব ইনফরমেশন (FOI) আবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত বছর লুইশাম এলাকায় ১৭৭টি অভিবাসন অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

লুইশাম কাউন্সিলের গৃহীত প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তারা অন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকেও এই উদ্যোগে যুক্ত করতে চায়। এজন্য অন্যান্য কাউন্সিলের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ‘অ্যান্টি-রেইডস সাংচুয়ারি করিডর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে অভিবাসী অধিকার সংগঠন, আইন সহায়তা কেন্দ্র, অভিবাসনবিরোধী অভিযান পর্যবেক্ষণকারী নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি আরও কয়েকটি স্থানীয় কাউন্সিল লুইশামের পথ অনুসরণ করে, তাহলে হোম অফিসের অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। যদিও স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর অভিবাসন নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা নেই, তবে তাদের প্রশাসনিক সহযোগিতা সীমিত হলে অভিযান পরিচালনা কিছু ক্ষেত্রে আরও জটিল হতে পারে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হোম অফিসের। ফলে কোনো কাউন্সিল আইনগত বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যেতে পারবে না। লুইশামও তাদের প্রস্তাবে স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র যেখানে আইনগতভাবে সম্ভব, সেখানেই সহযোগিতা সীমিত বা বন্ধ করা হবে।

লুইশামের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এখন নজর থাকবে, লুইশামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্য কোনো স্থানীয় কাউন্সিলও একই ধরনের অবস্থান গ্রহণ করে কি না।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের ১০০ বছরের ইতিহাসে উষ্ণতম মাস

অনলাইন ডেস্ক

বিমানবন্দরে মানবাধিকার কর্মীকে আটকের কারণে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের ক্ষমাপ্রার্থনা

মহিলাদের নিরাপত্তায় ও রাস্তায় হয়রানি প্রতিরোধে ব্রিটেনে নতুন অ্যাপ চালু