যুক্তরাজ্য ছেড়ে পরিবার নিয়ে ইউরোপ ঘুরে বেড়াচ্ছেন মার্সিসাইডের সাবেক লরি চালক লি বোডেল। ৪৭ বছর বয়সী লি সপ্তাহে মাত্র ১০ ঘণ্টা অনলাইনে কাজ করে ৫০০ থেকে ১ হাজার পাউন্ড আয় করছেন। এই আয় দিয়েই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তাদের ভ্রমণের খরচ চালানো হচ্ছে।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লি আগে সপ্তাহে প্রায় ৫০ ঘণ্টা লরি চালাতেন এবং টানা আট বছর অসুস্থতার কারণে একদিনও ছুটি নেননি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ১০ সপ্তাহ বাড়িতে থাকার সুযোগ তার জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। এরপর চাকরি ছেড়ে অনলাইন ব্যবসার দিকে মনোযোগ দেন তিনি।
লি ও তার সঙ্গী অ্যামি বেডফোর্ড ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নিজেদের চার শয্যার বাড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বাড়িটি ৩ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করে তারা।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা সাইপ্রাসে ১০ দিনের জন্য একটি ভিলা ভাড়া নিয়ে বিদেশে থেকে লির ব্যবসা চালানো সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করেন। সেই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাজ্যের জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
সেপ্টেম্বরে প্যারিসে যাওয়ার পর মাত্র তিন সপ্তাহে পরিবারটি নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ইতালিসহ সাতটি দেশ ঘুরেছে। ইউরোপজুড়ে ৬০ দিনের যাতায়াতের জন্য প্রথম শ্রেণির ট্রেনের টিকিট কিনতে তাদের খরচ হয়েছে ১ হাজার ৮০০ পাউন্ড।
পরিবারটির বর্তমান ভ্রমণ খরচের বড় অংশ আসছে লির অনলাইন ব্যবসা থেকে। তিনি ইবে, অ্যামাজন এবং নিজের শপিফাই স্টোরে মোবাইল বাড়ির জন্য সৌর প্যানেল বিক্রি করেন। সপ্তাহে মাত্র ১০ ঘণ্টা এই কাজে ব্যয় করে তিনি ৫০০ থেকে ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করছেন।
পরিবারটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের মোট ভ্রমণ ব্যয় প্রায় ৬ হাজার পাউন্ড। নভেম্বরে ইউরোপের ট্রেনের টিকিটের মেয়াদ শেষ হলে তারা যত বেশি সম্ভব ইউরোপীয় দেশ ঘুরে থাইল্যান্ডে গিয়ে বড়দিন ও নববর্ষ কাটানোর পরিকল্পনা করছে। পরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গিয়ে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের মধ্যে জীবনযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
লি ও অ্যামির দুই ছোট মেয়ে—১০ বছর বয়সী মাতিল্ডা-মে এবং ৯ বছর বয়সী মিলা—স্কুল থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তারা বিভিন্ন বিষয়ে শেখার সুযোগ পাচ্ছে বলে পরিবারটি জানিয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে অনলাইনে তাদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যামি আগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পারিবারিক সহায়তা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাজ্যে চাকরি ও সন্তানদের স্কুলের ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খুব কম সময় কাটাতে পারতেন। তাই তারা মনে করছিলেন, তারা জীবনযাপন না করে শুধু জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবারটি বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্র ও শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে, যাতে খরচ কম থাকে। ইতালিতে তারা ইউরোক্যাম্পে থেকেছেন এবং লিডলের মতো সস্তা সুপারমার্কেট থেকে খাবার কিনছেন। বাইরে খাওয়ার বদলে অনেক সময় নিজেদের খাবার নিজেরাই তৈরি করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারটির বড় দুই সন্তান ১৮ বছর বয়সী বিলি ও ১৭ বছর বয়সী লাইলা যুক্তরাজ্যেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তারা ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাইরে কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায়।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

