যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটিকে ভেঙে চারটি রাষ্ট্রে পরিণত করার পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য র্যান্ডি ফাইন। একই সময়ে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ফ্লোরিডার কংগ্রেস সদস্য র্যান্ডি ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্বাধীনতা এবং আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ‘চার রাষ্ট্রের সমাধান’-এর কথা বলেন। তার মন্তব্য যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এদিকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা সোমবার কার্ডিফে বৈঠকে বসবেন। স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ আইওরওয়েথ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল একটি যৌথ ঘোষণায় ওয়েস্টমিনস্টারের কাছে তাদের নিজ নিজ দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গণভোটের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাতে পারেন।
২০১৪ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৫৫ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে স্বাধীনতার দাবি এখনো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওয়েস্টমিনস্টারের অনুমতি ছাড়া স্কটল্যান্ডের নতুন স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়।
ওয়েলসেও স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছে প্লেইড কামরি। অন্যদিকে গুড ফ্রাইডে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের গণভোট আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় তিনি বলেন, পুনরেকত্রীকরণ ঘটলে তিনি খুশি হবেন এবং এটি শেষ পর্যন্ত ঘটবে বলে মন্তব্য করেন। স্কটল্যান্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি পরে আলোচনা করবেন বলে জানান।
র্যান্ডি ফাইন এর আগেও ব্রিটিশ সরকারের ইসরায়েলনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন এবং ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি ব্রিটেনকে ‘ইউনাইটেড ইসলামিক কিংডম’ বলেও মন্তব্য করেন।
তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও যুক্তরাজ্য ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো সেখানে প্রায় ৮৮ হাজার কর্মসংস্থানকে সমর্থন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ভেতরে স্বাধীনতার দাবি এবং বাইরে থেকে আসা রাজনৈতিক সমর্থনের এই সমন্বিত চাপের মধ্যেই দেশটির সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

