TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতে বড় সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়া

বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি অবকাঠামো ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বের তিন প্রভাবশালী শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদাকে কেন্দ্র করে এই তিন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নোভাটেক বাংলাদেশে এলএনজি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য গ্র্যাভিটি-বেজড স্ট্রাকচার বা জিবিএস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট গ্রুপ। এর বাইরে মহেশখালীতে আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার আগ্রহের পেছনে দেশের জ্বালানি চাহিদা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানও বড় ভূমিকা রাখছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিসরের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান যুক্ত।

এ অঞ্চলের সমুদ্রপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনার কারণে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বও বাড়ছে। বিশেষ করে মালাক্কা প্রণালীনির্ভর জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প রুট এবং বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা বড় শক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়িয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের বৈঠকেও এলএনজি প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের এলএনজি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। নীতিগত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের দিকে এগোচ্ছে। ফলে সামনে দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো নিয়ে তিন পরাশক্তির আগ্রহ দেশের জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুবিধা পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা। পাশাপাশি কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি না করে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা।

সূত্রঃ এশিয়ানিউজ নেটওয়ার্ক

এম.কে

আরো পড়ুন

২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে মার্কিন কোম্পানি

নিউজ ডেস্ক

সমালোচনার পর সরিয়ে নেওয়া হলো প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে আর্থিক সাহায্য চাওয়া পোস্ট

আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণাঃ ইসি সচিব