27.7 C
London
May 24, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিচ্ছেদ নয়’, ইউরোপকে সতর্ক করলেন ডেভিড মিলিব্যান্ড

সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইউরোপের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও স্বাধীন ও স্বনির্ভর হওয়া, তবে দীর্ঘদিনের আটলান্টিক জোট থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া হবে বড় ধরনের ভুল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রোববার যুক্তরাজ্যের সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিলিব্যান্ড বলেন, “ইউরোপের কৌশলগত স্বনির্ভরতার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিচ্ছেদ—এমন ধারণা এখন অনেকেই দিচ্ছেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পথ।”

তিনি বলেন, “আলাদা শোবার ঘর হতে পারে, কিন্তু বিচ্ছেদ নয়। কারণ আমরা যদি বিচ্ছেদের পথে যাই, তাহলে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যেতে পারি।”

২০১৩ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিলিব্যান্ড বলেন, ইউরোপকে অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি রসিকতা করে বলেন, ইউরোপের “আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টও” প্রয়োজন।

তার ভাষায়, “যুদ্ধবিমান বা সামরিক সরঞ্জাম কেনার সময় সিদ্ধান্ত নিতে হয়—আপনি ইউরোপীয় পণ্য কিনবেন নাকি আমেরিকান। একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ইউরোপের সার্বভৌম সক্ষমতা গড়ে তোলা খুবই কঠিন চ্যালেঞ্জ।”

জলবায়ু সংকট প্রসঙ্গে মিলিব্যান্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে গেলেও ইউরোপের থেমে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “পরিবেশগত স্বার্থের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বার্থেও ইউরোপকে নেতৃত্বে থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের রাজনৈতিক ও সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হলে সম্পদ সৃষ্টি ও তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। মিলিব্যান্ড উল্লেখ করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু জিডিপি ইউরোপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

আলোচনায় অংশ নেওয়া লেখক ও আইনজীবী ফিলিপ স্যান্ডস বলেন, যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বাস্তবে “একমুখী” এবং ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।

তার মতে, ব্রিটেনের “মূল সংযোগ” ইউরোপের সঙ্গেই এবং ভবিষ্যতে সেদিকেই অগ্রসর হতে হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্রান্সের কাছে যুক্তরাজ্য এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

স্যান্ডস বলেন, “যুক্তরাজ্যকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে।”

আলোচনা পরিচালনা করা বিবিসি উপস্থাপক মিশা গ্লেনি বলেন, ব্রেক্সিট অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ৪০ বছরের অর্থনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক সমন্বয় থেকে বেরিয়ে আসা কতটা “বিপর্যয়কর” হতে পারে।

এর আগের দিন আরেক আলোচনায় ডেভিড মিলিব্যান্ড যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের প্রশ্নে “জাতীয় ঐকমত্য” গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “নিজেদের আরও দরিদ্র বা অনিরাপদ করে তোলা ব্রেক্সিট ভোটকে সম্মান জানানো নয়, বরং তার উল্টো।”

মিলিব্যান্ডের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্রিটিশ মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের এক কর্মকর্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পণ্যের জন্য একক বাজার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদিও তা ইইউ কর্মকর্তারা প্রত্যাখ্যান করেন।

বৈশ্বিক সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিলিব্যান্ড। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এমন ভাঙন তৈরি করেছে, যা ইরাক যুদ্ধের চেয়েও বড়।

তার ভাষায়, “এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ককে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা আমি আগে কখনো দেখিনি।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ডেঙ্গু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

এখন থেকে মক্কা ও মদিনায় বিনিয়োগ করতে পারবেন বিদেশিরা

ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া চেক করবে যুক্তরাষ্ট্র