30.2 C
London
August 3, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্লু ব্যাজ থাকলেই সবখানে পার্কিং নয়ঃ ১১ স্থানে গাড়ি রাখলে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্যে গুরুতর শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত লাখো মানুষের চলাচল সহজ করতে চালু রয়েছে ‘ব্লু ব্যাজ’ কর্মসূচি। এই বিশেষ পার্কিং সুবিধার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে পার্কিং করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে হলুদ লাইনে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি রাখার অনুমতি পান। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এমন অন্তত ১১টি স্থান রয়েছে যেখানে ব্লু ব্যাজ থাকলেও দিন বা রাত—কোনো সময়ই গাড়ি পার্ক করা বৈধ নয়।

যুক্তরাজ্যের পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ব্লু ব্যাজ সুবিধা ব্যবহার করছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গুরুতর চলাচল-সীমাবদ্ধতায় ভোগা নাগরিক এবং কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই সুবিধা দেওয়া হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনেক চালক ভুল ধারণা থেকে মনে করেন যে ব্লু ব্যাজ থাকলে যেকোনো স্থানে গাড়ি পার্ক করা যায়। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রাফিক নিরাপত্তা, জরুরি যানবাহনের চলাচল এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকায় ব্লু ব্যাজধারীদের জন্যও কোনো ছাড় নেই।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জেব্রা ক্রসিংয়ের জিগজ্যাগ চিহ্নিত অংশ, রেড রুট, বাস স্টপ, সাইকেল লেন, স্কুল প্রবেশপথ, ট্রাম বা ট্রামলাইন সংলগ্ন এলাকা, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, জরুরি যানবাহনের প্রবেশপথ, লোডিং জোন, ডাবল সাদা লাইনের নিয়ন্ত্রিত অংশ এবং ‘নো স্টপিং’ বা ‘নো পার্কিং’ চিহ্নযুক্ত স্থানে কোনো অবস্থাতেই গাড়ি রাখা যাবে না।

বিশেষ করে লন্ডনের মতো ব্যস্ত নগরীতে রেড রুট আইন অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। এসব রুটে অনুমতি ছাড়া গাড়ি থামালে তাৎক্ষণিক জরিমানার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি টো করে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবছর হাজার হাজার চালক ভুলভাবে ব্লু ব্যাজ ব্যবহার করার কারণে জরিমানার মুখে পড়েন। বিভিন্ন স্থানীয় কাউন্সিলের আওতায় পার্কিং বিধি লঙ্ঘনের জন্য সাধারণত ৭০ থেকে ১৩০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করলে কিছু ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ অর্ধেকে নেমে আসে। তবে গুরুতর লঙ্ঘন বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্লু ব্যাজ ব্যবহার করার সময় সেটি অবশ্যই গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ওপর এমনভাবে প্রদর্শন করতে হবে যাতে মেয়াদ ও তথ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ব্যাজধারী ব্যক্তি গাড়িতে উপস্থিত না থাকলে বা অন্য কেউ অবৈধভাবে ব্যাজ ব্যবহার করলে সেটিও আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীরা বলছেন, ব্লু ব্যাজ কর্মসূচি লাখো মানুষের স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর অপব্যবহার রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তাদের মতে, চালকদের উচিত গাড়ি পার্ক করার আগে স্থানীয় সড়কচিহ্ন, ট্রাফিক নির্দেশনা এবং পার্কিং সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভালোভাবে যাচাই করা। কারণ ব্লু ব্যাজ গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিলেও এটি সর্বত্র পার্কিংয়ের অনুমতি দেয় না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে ব্লু ব্যাজ ব্যবহার করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়। কিন্তু নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি পার্ক করলে শুধু জরিমানাই নয়, আইনি জটিলতা ও ব্যাজ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ গভ ডট ইউকে

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য সরকারের আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে বাজেট যুদ্ধ

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে রেন্টাল খাতে বড় সংস্কার আনছে লেবার সরকারঃ ডিপোজিট আত্মসাতের পথ বন্ধ

ঋষি সুনাকের উপর চাপ বাড়ছে, ইংল্যান্ডে ফের ধর্মঘটে চিকিৎসকরা