যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউস এখন এমন এক যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকে বহুগুণ বেশি ক্ষতি ডেকে এনেছে। এই যুদ্ধটি মূলত চার সপ্তাহের জন্য পরিকল্পিত হয়েছিল—ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভেঙে দেওয়া এবং শাসন পরিবর্তন ঘটানোর জন্য।
তেহরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার আগে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সাহসী অভিযানের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মনে করেছিলেন, তেহরানও দ্রুত ভেঙে পড়বে। পরিকল্পনাটি ছিল সহজ—জোরে আঘাত, দ্রুত আঘাত—তাহলেই তেহরান বাধ্য হবে ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে।
কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। ইরান হরমুজ প্রণালীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়ামের মজুদও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
তেলের দাম বেড়ে গেছে, বড় বিমানবন্দরগুলো জ্বালানির সংকটের আশঙ্কা করছে এবং এই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ প্রেসিডেন্টের ওপর পড়ছে, যখন সামনে কঠিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং জনপ্রিয়তা হ্রাসের সংকট রয়েছে।
উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রশাসন পরিস্থিতি ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ায় হতবাক হয়েছে। ট্রাম্প এখন ন্যাটো মিত্রদের ওপর হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর সবসময় সাহায্য করবে না, নিজেরা লড়াই করতে শিখতে হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সোমবার জানান, প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এখন আর প্রধান অগ্রাধিকার নয়। ট্রাম্প দাবি করছেন পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে “নতুন ও যুক্তিসঙ্গত” নেতৃত্বের আলোচনার চেষ্টা চলছে, যদিও ইরান সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী নয়।
অন্যদিকে, ব্রিটেনসহ মিত্র দেশগুলোও আশান্বিত নয়। যুদ্ধের দীর্ঘায়ন ইরানের পক্ষে সুবিধাজনক, কারণ তারা এতে দীর্ঘমেয়াদি দাবি আদায় করতে পারবে।
বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৬ শতাংশে নেমেছে, এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবেলায় তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ।
জনপ্রিয়তা রক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষতি এড়াতে—ট্রাম্প হয়তো তার পরিকল্পনার আগেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

