5.5 C
London
March 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রমজানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের আফটার-স্কুল ডিটেনশন না দেওয়ার পরামর্শ

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ লন্ডনের একটি লেবার-নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রমজান মাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল শেষে ডিটেনশন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রোজা রাখা শিক্ষার্থীদের যেন ইফতারের সময়ের আগে বাড়ি ফিরতে বাধা না পড়ে, সে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।

এই নির্দেশনা দিয়েছে দক্ষিণ লন্ডনের লিউইশাম কাউন্সিল। কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রমজান মাস এখন শীতকালীন সময়ের মধ্যে পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে স্কুল শেষে ডিটেনশন বা অতিরিক্ত কার্যক্রমে অংশ নিলে রোজা রাখা শিক্ষার্থীরা সময়মতো বাড়ি গিয়ে ইফতার করতে পারে না।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা যদি স্কুলের নিয়ম ভঙ্গও করে, তবুও তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন—বিশেষ করে সময়মতো রোজা ভাঙা—বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এ কারণে স্কুলগুলোকে শাস্তির বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ভাবতে বলা হয়েছে।

নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আফটার-স্কুল ডিটেনশন না দিয়ে লাঞ্চটাইম ডিটেনশন দেওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

এই নির্দেশিকা প্রস্তুত করেছে লিউইশাম ইসলামিক সেন্টার। মসজিদটির প্রধান ইমাম শাকিল বেগ অতীতে একটি হাইকোর্ট মামলায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। এক বিচারক তাকে “চরমপন্থী ইসলামী বক্তা” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

২০১৬ সালে তিনি বিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, কারণ সম্প্রচারমাধ্যমটি তাকে চরমপন্থী বলে উল্লেখ করেছিল। তবে হাইকোর্টের বিচারক মি. জাস্টিস হ্যাডন-কেভ রায়ে বলেন, তার একটি পুরোনো বক্তৃতায় চরমপন্থী বক্তব্যের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।

নির্দেশিকাটি তৈরি হয়েছে স্ট্যান্ডিং অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল অন রিলিজিয়াস এডুকেশন বা স্যাকর (এস-এ-সি-আর-ই) নামের একটি সংস্থার সহযোগিতায়। যুক্তরাজ্যের প্রতিটি স্থানীয় কাউন্সিলকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও উপাসনা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এমন একটি সংস্থা গঠন করতে হয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, রমজান মাসে অনেক মুসলিম শিক্ষক ও বয়স্ক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করতে চাইতে পারেন। তাই স্কুলগুলোতে নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ—সম্ভব হলে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথকভাবে—রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

স্কুলগুলো চাইলে বড় কক্ষ ব্যবহার করে সম্মিলিত নামাজের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা স্থানীয় মসজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো ইমাম এনে শুক্রবারের জুমার নামাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষকদের এই সময়টিকে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন—রমজান সম্পর্কে ক্লাসে আলোচনা করা বা মুসলিম কমিউনিটির অতিথি বক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো। এ ক্ষেত্রে লিউইশাম ইসলামিক সেন্টার স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ইসলামিক সেন্টারের নেতৃত্ব নিয়েও অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান আশরাফ দাবুস ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে সংঘটিত অভিবাসনবিরোধী দাঙ্গা নিয়ে এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, দাঙ্গাকারীরা জায়নিস্টদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।

এই ইসলামিক সেন্টারে পূর্বে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন মোয়াজ্জাম বেগ, যিনি গুয়ান্তানামো বে কারাগারের সাবেক বন্দি এবং ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হন।

এ বিষয়ে লিউইশাম কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বলেছেন, রমজান সংক্রান্ত এই পরামর্শ তৈরি করেছে স্যাকর, যা একটি বহুধর্মীয় পরামর্শক সংস্থা। স্থানীয় ইসলামিক কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে এই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য স্কুলগুলোকে ধর্মীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করা।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ লন্ডনেঃ দূতাবাস থেকে নামানো হলো তেহরানের পতাকা

‘গোলপোস্ট সরাচ্ছে সরকার’: ভিসা নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনায় সাদিক খান

যুক্তরাজ্যে দুই সন্তানের বেনিফিট সীমা প্রত্যাহারঃ বড় পদক্ষেপ চ্যান্সেলর রিভসের