17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

রাশিয়ার হামলায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্তঃ পুতিনের বিরুদ্ধে নীরব থাকায় ট্রাম্পের সমালোচনা

ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও সরবরাহকেন্দ্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। কোকা-কোলা, ম্যাকডোনাল্ডস, পেপসিকো, ওরিও বিস্কুটের প্রস্তুতকারক মন্ডেলেজ, বোয়িং, ফিলিপ মরিস, কারগিল ও বাঞ্জের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় হামলার ঘটনায় নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এসব হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না থাকায় সমালোচনা বাড়ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর হামলার বিষয়ে নীরব থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব পাল্টা হামলার কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং কাজাখস্তানে মার্কিন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইউক্রেনে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার বলেছেন, রাশিয়ার হামলার মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন, কারণ মার্কিন অর্থ, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক স্বার্থ আক্রান্ত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করলে নিজ দেশের সরকারের কাছ থেকে সুরক্ষা প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপনায় রুশ হামলা বেড়েছে। কিয়েভের কাছাকাছি কোকা-কোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানায় হামলার পাশাপাশি কিয়েভ অঞ্চলে ম্যাকডোনাল্ডসের একটি বড় সরবরাহকেন্দ্র এবং মাইকোলাইভ অঞ্চলে পেপসিকোর একটি উৎপাদনকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রুশ ড্রোন হামলায় ম্যাকডোনাল্ডসের সরবরাহকেন্দ্রটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্য ও কৃষিপণ্য উৎপাদন খাতেও হামলার প্রভাব পড়েছে। খারকিভে ফিলিপ মরিসের কারখানার একটি অংশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী মন্ডেলেজ এবং কৃষিপণ্য খাতের বড় প্রতিষ্ঠান বাঞ্জ ও কারগিলের কার্যক্রম পরিচালনার স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে দেশটির কংগ্রেসেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানাতে এবং বিদেশে মার্কিন সম্পদ সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হোয়াইট হাউসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন চেম্বার অব কমার্সও বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে চেম্বার অব কমার্স হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানালেও কোনো উত্তর পায়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেনে একটি মার্কিন ইলেকট্রনিকস স্থাপনায় রুশ হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কর্মকাণ্ডে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পর নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা, সতর্কবার্তা বা প্রকাশ্য নিন্দা জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিয়েভের যুক্তি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে ইউক্রেনে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ও কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হবে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস \ সিএনএন

এমকে

আরো পড়ুন

৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান, ট্রাম্পের মনে সংশয়

অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের দাতব্য অনুদানঃ তদন্ত শুরু করল চ্যারিটি কমিশন

যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএসধারী অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশঃ স্বেচ্ছায় ফিরলে মিলবে বিমান ভাড়া