20.9 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রাশিয়ার হুমকি বাড়ছেঃ কিন্তু দেশের জন্য অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত নন অধিকাংশ ব্রিটিশ

ব্রিটেনের হয়ে যুদ্ধে যেতে রাজি নন প্রায় অর্ধেক নাগরিক। ইপসোসের এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ দেশের জন্য অস্ত্র হাতে লড়াই করতে প্রস্তুত। বিপরীতে, ৪৮ শতাংশ বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তারা ব্রিটেনের হয়ে যুদ্ধে যেতে চান না। বাকি উত্তরদাতারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ সম্প্রতি বলেছেন, আক্রান্ত হলে ন্যাটো ‘আজ রাতেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’। ইউরোপের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, রাশিয়া গোপন হামলা বাড়িয়ে অথবা সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারে।

ব্রিটেনের গত বছরের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সম্ভাবনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে এস্তোনিয়ার একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ এবং জার্মানির একটি বিমানবন্দরে ইউক্রেনের একটি উড়োজাহাজে হামলার ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, অতিরিক্ত ঋণ, কর বৃদ্ধি অথবা সরকারি পরিষেবায় ব্যয় কমানোর প্রয়োজন হলেও সরকারের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা উচিত। বিপরীতে, মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে ব্যক্তিগত কর বৃদ্ধি বা সরকারি পরিষেবায় ব্যয় কমানোর বিরোধিতা করেছেন ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা। আর ৩৭ শতাংশ মানুষ সরকারি ঋণ বাড়িয়ে এই ব্যয় মেটানোর বিপক্ষে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলাকে ব্রিটেনের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করেন।

ইপসোসের যুক্তরাজ্যবিষয়ক গবেষণা পরিচালক ক্যারোলিন পাসকেল বলেন, অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে স্বীকৃতি রয়েছে। তবে এই ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কর্মসংস্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোর মতো অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে—এমন বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ থাকলেও ব্যক্তিগত কর বৃদ্ধি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবায় কাটছাঁটের প্রশ্নে বিরোধিতা বাড়ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় নির্ধারণ করা উচিত। তিনি জানান, আসন্ন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের ৪৭০ কোটি পাউন্ডের অর্থায়ন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় আয়ের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্যে কীভাবে এগোনো হবে, সে বিষয়ে সরকার আগামী বছরের ব্যয় পর্যালোচনায় বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন স্ট্রিটিং। চলতি বছরে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় জাতীয় আয়ের ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর আগে জন হিলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার সময় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জাতীয় আয়ের ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর চাপের পাশাপাশি কর বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখাও ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইপসোস ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৯০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডনে টিউব ধর্মঘটে অচল যাতায়াত, রাত ৮টার মধ্যে যাত্রা শেষের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে অ্যামাজন কর্মীরা

যুক্তরাজ্যে ময়লার বিন নিয়ে নতুন সতর্কতাঃ সাধারণ ভুলেই অর্ধেক খালি থাকবে ময়লার বিন