15.1 C
London
October 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন শিশুদের অনিশ্চিত জীবন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন যে হারে পড়ছে আবেদন যাচাই বাছাই সেই হারে হচ্ছে না৷ ফলে চলতি বছরের শুরুতে সরকারি হিসেব জানাচ্ছিল, এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে৷ তার মধ্যে কয়েক হাজার অভিভাবকহীন শিশুর আশ্রয়ের আবেদনও রয়েছে৷

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করা কয়েক হাজার অভিভাবকহীন শিশু অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে৷ কেননা, তাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনও চূড়ান্ত হয়নি৷ তাদের কেউ কেউ কয়েক বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছে৷

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, আশ্রয় আবেদন সুরাহার আশায় ২০২০ সালেই সাড়ে সাত হাজারের বেশি শিশু এক বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় ছিল৷ যেসব শিশু পরিবারের কোনো সদস্য বা অভিভাবক ছাড়াই অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেয়ার জন্য পৌঁছায় তাদেরকে অভিভাবকহীন শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷

যুক্তরাজ্যের শরণার্থী পরিষদ এক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘‘আমরা এই শিশুদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জেনেছি যে তারা নিজেদের কোনো দোষের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়নি৷ তারা এখানে পৌঁছানোর সময় গভীরভাবে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত ছিল, কারো কারো শারীরিক আঘাতও ছিল৷’’

আবেদন প্রক্রিয়া যাচাই বাছাইয়ে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি এই শিশুদের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করছে শরণার্থী পরিষদ৷

‘‘আমাদের সঙ্গে কথা বলা শিশুরা জানিয়েছে যে তারা উদ্বেগ, ভীতি এবং একাকিত্ব অনুভব করছে৷ এবং আমরা তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন,’’ জানিয়েছে পরিষদ৷

পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে আশ্রয় আবেদন যাচাই বাছাইয়ের অপেক্ষায় থাকা শিশুদের মধ্যে ৫৭ জন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছে৷ ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল পাঁচ জন এবং ২০২২ সালে ৩৫ জন৷

যুক্তরাজ্য শরণার্থী পরিষদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে আশ্রয় আবেদনের ফল পেতে অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকহীন শিশুর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ১৫২ জন৷ তাদের অধিকাংশই সুদান থেকে এসেছে এবং তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে৷

সুদানে গত ১৫ এপ্রিল থেকে দেশটির সরকারি বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী ব়্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলছে৷ জাতিসংঘের হিসেবে দেশটির ৫৮ লাখ বাসিন্দা সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন৷

আফ্রিকার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় এই দেশটির ৪৭ শতাংশ জনসংখ্যাই শিশু৷ দেশটির তরুণ সম্প্রদায়ের এক তৃতীয়াংশ, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে, তারা বেকার৷ বিশেষ করে বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ পুরুষেরা বেশি সংখ্যক বেকার৷

সুদানের পাশাপাশি ইরান, ইরিত্রিয়া, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, ইরাক, আলবেনিয়া, ইথিওপিয়া এবং সিরিয়া থেকে আসা অনেক অভিভাবকহীন শিশুও যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছে৷

এম.কে
১২ নভেম্বর ২০২৩

আরো পড়ুন

ল’ সোসাইটির নতুন নির্দেশিকাঃ ‘Dear Sirs’ আর নয়, সময় এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষার

আত্মীয়দের সপ্তাহে ১০০ পাউন্ড দানে শামীমা বেগমের জীবনযাপন, চলমান আইনি লড়াই অব্যাহত

লেবারের ক্ষমতার পালাবদলঃ ‘বার্নহ্যামকে অপ্রস্তুত করতেই’ দ্রুত সরে দাঁড়ান স্টারমার!