23.2 C
London
August 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রিফর্ম ২৬%, লেবার ২৮%, কনজারভেটিভ ২১%—ব্রিটিশ রাজনীতিতে গভীর হচ্ছে ভোটের বিভাজন

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় রিফর্ম ইউকের সমর্থন ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। দলটি এখন ২৬ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে লেবার পার্টির মাত্র ২ শতাংশ পয়েন্ট পেছনে রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া লেবার পার্টির জাতীয় সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটি আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের আগের বিশ্লেষণেও দেখা গিয়েছিল, বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার রিফর্ম ইউকের ওপর সামান্য ব্যবধান তৈরি করেছে।

নতুন জরিপের হিসাবে লেবার পার্টি ২৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। রিফর্ম ইউকে রয়েছে ২৬ শতাংশে। আর কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন নেমে এসেছে ২১ শতাংশে। অর্থাৎ তিন প্রধান দলের মধ্যে ব্যবধান এখন অত্যন্ত কম, যা ব্রিটিশ রাজনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের চিত্র তুলে ধরছে।

তবে লেবারের ২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানকে খুব নিরাপদ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের জুলাইয়ের বিশ্লেষণেও রিফর্মের ওপর লেবারের সামান্য ব্যবধানকে পরিসংখ্যানগতভাবে দুর্বল বলা হয়েছিল। একই সময়ে তাদের মডেল লেবারকে আসনসংখ্যার হিসাবে রিফর্মের তুলনায় অনেক এগিয়ে দেখিয়েছিল।

রিফর্ম ইউকের উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে কনজারভেটিভ ভোটারদের একটি অংশের দলবদল। নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের কনজারভেটিভ ভোটারদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় একজন এখন নাইজেল ফারাজের দলকে সমর্থন করছেন। ফলে টোরিদের ডানপন্থী ভোটব্যাংকে রিফর্মের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর কনজারভেটিভদের সমর্থনও কমেছে। নতুন জরিপে দলটির অবস্থান ২১ শতাংশে। এর অর্থ হলো, রিফর্ম ইউকের উত্থান শুধু লেবারের জন্য নয়, কনজারভেটিভ পার্টির জন্যও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে লেবারের হারানো ভোটও একক কোনো দলের ঘরে যাচ্ছে না। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেবার কিছু ভোট হারাচ্ছে রিফর্ম ইউকে ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের কাছে। একই সঙ্গে গ্রিন পার্টিও লেবারের সাবেক সমর্থকদের একটি অংশ নিজেদের দিকে টানছে। ২০২৪ সালে লেবারকে ভোট দেওয়া প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার গ্রিন পার্টির দিকে চলে গেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন ব্যাক্সটারের মতে, ব্রিটিশ ভোটারদের মধ্যে সরাসরি বাম থেকে ডানে কিংবা ডান থেকে বামে অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা খুব বেশি নয়। বরং ভোটারদের বড় অংশ একই রাজনৈতিক পরিসরের মধ্যে কোন দলকে সমর্থন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রতি ১০০ ভোটারের মধ্যে মাত্র একজন বাম ও ডান রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু ২৫ জন কোন দলকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে মত বদলেছেন।

এই পরিস্থিতি ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসময় লেবার ও কনজারভেটিভ—এই দুই দলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টির উত্থানে ভোটের হিসাব অনেক বেশি খণ্ডিত হয়ে পড়েছে।

ব্যাক্সটার মনে করেন, অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টির সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করা এবং একই সঙ্গে লেবার থেকে চলে যাওয়া ভোটারদের ফিরিয়ে আনা। তার মতে, বার্নহামের সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তা লেবারকে রিফর্মের ওপরে রাখতে সহায়তা করেছে, কিন্তু এই সুবিধা খুব সতর্কতার সঙ্গে ধরে রাখতে হবে।

ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসেও ‘বার্নহাম বাউন্স’-এর প্রভাব দেখা গেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, লেবার রিফর্মের আগের ব্যবধান ঘুরিয়ে দিয়ে সামান্য এগিয়ে গেছে। আসনভিত্তিক মডেলে তখন লেবারকে ২৪৪ আসন এবং রিফর্মকে ১২৭ আসন দেওয়া হয়েছিল।

তবে জনপ্রিয়তার এই সাময়িক উত্থান নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ঝুঁকিও রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বার্নহামকে আগাম নির্বাচন ডাকার ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ সামান্য জনসমর্থন বৃদ্ধি সরাসরি নির্বাচনী সাফল্যে রূপান্তরিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের সামনে এখন বড় সুযোগ কনজারভেটিভ ভোটারদের আরও বেশি নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া। মার্টিন ব্যাক্সটারের পরামর্শ, অর্থনৈতিক নীতিতে রিফর্ম ইউকে আরও কিছুটা ডানদিকে গিয়ে বাজেট ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিলে অর্থনৈতিকভাবে রক্ষণশীল টোরি ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হতে পারে।

তবে রিফর্মও পুরোপুরি নিরাপদ অবস্থানে নেই। দলটি ডানপন্থী ভোটের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার লড়াইয়ে কনজারভেটিভদের পাশাপাশি আরও কিছু রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ফলে ফারাজকে শুধু টোরিদের ভোটই টানতে হবে না, নিজের দলের বর্তমান সমর্থকদেরও ধরে রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে নতুন জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—ব্রিটিশ রাজনীতি এখন আর কেবল লেবার বনাম কনজারভেটিভ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। লেবার সাময়িকভাবে এগিয়ে থাকলেও রিফর্ম ইউকে মাত্র ২ শতাংশ পয়েন্ট পেছনে এবং কনজারভেটিভরা ২১ শতাংশে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে গ্রিন ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের উপস্থিতিও ভোটের হিসাবকে আরও জটিল করে তুলছে।

ফলে অ্যান্ডি বার্নহামের ‘বাউন্স’ লেবারকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও সেটি কতদিন স্থায়ী হবে, আর নাইজেল ফারাজ রিফর্ম ইউকেকে কনজারভেটিভদের ওপরে স্থায়ীভাবে তুলে নিতে পারবেন কি না—এই দুই প্রশ্নই আগামী দিনের ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউরোপে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ, বরিস জনসনের সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে বাবা-চাচা ও সৎ মা মিলে ১০ বছরের শিশুকে হত্যা

টিউলিপ সিদ্দিককে পদ থেকে না সরানোয় ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য রাজনীতিবিদেরা