দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও খরার পর এবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রঝড়, ভারী বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় একাধিক ‘ইয়েলো থান্ডারস্টর্ম ওয়ার্নিং’ জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হতে পারে, সড়ক ও রেল যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়া এই সতর্কতা উত্তর আয়ারল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব স্কটল্যান্ড এবং উত্তর ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রযোজ্য হয়েছে। ম্যানচেস্টার, লিভারপুল ও নিউক্যাসলসহ উত্তর ইংল্যান্ডের বড় শহরগুলো বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সতর্কতার আওতায় থাকবে।
মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও ছয় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বর্ষণের পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে। আবহাওয়াবিদ এইডান ম্যাকগিভার্ন বলেছেন, বুধবার যুক্তরাজ্যজুড়ে “খুবই ঝরনামুখর দিন” দেখা যাবে, বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং পশ্চিম ও মধ্য স্কটল্যান্ডে ঘন ঘন ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মাটি শক্ত হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে শোষিত হবে না। ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি জমে সড়ক, আবাসিক এলাকা ও নিচু স্থানে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত মধ্য ও দক্ষিণ ল্যাঙ্কাশায়ারের কিছু এলাকায় ২৩ মিলিমিটার এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু স্থানে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এই আবহাওয়ার পরিবর্তন এসেছে চলতি গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহের পর। গত সপ্তাহে লন্ডনের কিউ গার্ডেনে তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং সমগ্র ওয়েলস খরার কবলে রয়েছে।
এদিকে এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি ও ন্যাচারাল রিসোর্সেস ওয়েলস সতর্ক করে বলেছে, এই সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি খরা রাতারাতি দূর করতে পারবে না। সেভার্ন নদীর পানির ওপর চাপ কমাতে সরকারকে বিশেষ ‘ড্রাউট অর্ডার’ জারির আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে নদী থেকে পানি উত্তোলন সীমিত করা হবে, যাতে নদীর পরিবেশ, কৃষি এবং জলজ প্রাণী সুরক্ষিত রাখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে সাধারণ মানুষের পানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না।
মেট অফিস জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে, যাত্রার আগে সড়ক ও রেল পরিস্থিতি যাচাই করতে এবং সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কথা মাথায় রেখে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

