TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের মেয়র পদে এগিয়ে সাদিক খানঃ চতুর্থ মেয়াদের সম্ভাবনা জোরালো

নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিন পার্টির সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে লেবার পার্টির স্যার সাদিক খান চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের (QMUL) মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের জন্য পরিচালিত সাভান্তা জরিপে লন্ডনের রাজনৈতিক মানচিত্রে লেবারের শক্ত অবস্থান বজায় থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

জরিপ অনুযায়ী, মেয়র নির্বাচনে লেবার পার্টির সমর্থন ৩৩ শতাংশ। কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে উভয়েই ১৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গ্রিন পার্টি ১৭ শতাংশ সমর্থন পেয়ে দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনছে। অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৯ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রার্থীদের সম্মিলিত সমর্থন ৬ শতাংশ।

গবেষক ড. ইওগান কেলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনার পর লেবার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। জরিপে দেখা গেছে, ইনার লন্ডনে লেবার ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারে, যা অন্য যেকোনো দলের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আউটার লন্ডনেও লেবার ২৯ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে থাকবে, যেখানে রিফর্ম ইউকে এবং কনজারভেটিভ উভয়ের সমর্থন ১৯ শতাংশ।

যদিও এখনো লেবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি, তবে স্যার সাদিক খান ইতোমধ্যে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ২০২৮ সালের নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তবে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বছর জানাবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

যদি সাদিক খান পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেন, তাহলে লেবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ব্রেন্ট ইস্টের এমপি ডন বাটলার, বিচারমন্ত্রী ও টটেনহ্যামের এমপি ডেভিড ল্যামি।

অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জেমস ক্লেভারলির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে তাকেই সবচেয়ে এগিয়ে মনে করা হচ্ছে।

জরিপে রিফর্ম ইউকের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও দলটি এখন পর্যন্ত লায়লা কানিংহামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে, তথাপি আগের জরিপের তুলনায় তাদের সমর্থন ১ শতাংশ কমেছে। তবে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন দলটি লন্ডনের বেশ কয়েকটি এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

এদিকে, একই জরিপে আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে করা পূর্বাভাসে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গ্রিন পার্টি লন্ডনে ১৩টি আসন জিততে পারে, যেখানে বর্তমানে লেবারের ৫৯টি আসন কমে ২৮টিতে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকে ১১টি আসন লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লন্ডন অ্যাসেম্বলি নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলও জরিপে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেবার ৩১ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রথম অবস্থানে থাকলেও গ্রিন পার্টি ২০ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে। কনজারভেটিভরা পেতে পারে ১৮ শতাংশ, রিফর্ম ইউকে ১৬ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১০ শতাংশ ভোট।

ড. কেলি বলেন, গ্রিন পার্টির দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা লন্ডনের রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেক্সলি অ্যান্ড ব্রোমলি এবং হ্যাভারিং অ্যান্ড রেডব্রিজ আসনে রিফর্ম ইউকের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি দলটি এসব আসনের কোনো একটি জিততে সক্ষম হয়, তবে লন্ডনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি হবে লেবার, কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের বাইরে অন্য কোনো দলের প্রথম আসনভিত্তিক বিজয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সর্বশেষ জরিপ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে লেবার এখনো লন্ডনের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তবে গ্রিন পার্টির উত্থান এবং রিফর্ম ইউকের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি রাজধানীর রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে, যা আগামী বছরগুলোতে লন্ডনের রাজনীতিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে অস্বীকারকারী দেশগুলোর ভিসা আটকে দেবে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটিশদের অন্য রকম বড়দিন উদ্‌যাপন

নিউজ ডেস্ক

গ্রীষ্মের ছুটিতে হোটেল বুকিং নয়: ব্রিটিশ ভ্যাকসিন মন্ত্রী