12.5 C
London
May 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে টমি রবিনসনের ডানপন্থী মিছিলের বিপরীতে প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন আজ শনিবার দুই বিপরীত মেরুর বিশাল বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে। একদিকে উগ্র ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসনের ডাকা ‘আনাইট দ্য কিংডম’ সমাবেশ, অন্যদিকে ফিলিস্তিনপন্থী ‘নাকবা দিবস’ বিক্ষোভ। উত্তেজনা এড়াতে মেট্রোপলিটন পুলিশ অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার ব্যয় ৪৫ লাখ পাউন্ড।

দুই সমাবেশের মাঝখানে ‘স্টেরাইল জোন’ (জীবাণুমুক্ত এলাকা) তৈরি করে পুলিশ। ৪ হাজারের বেশি সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে ড্রোন, ঘোড়া, কুকুর ও সাঁজোয়া যান। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি অভিযান। ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালীন সময় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযানে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃতদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেয়নি পুলিশ।

ইউস্টন স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে এক জন বার্মিংহামের এক ঘটনায় গুরুতর অঙ্গহানির সন্দেহে ওয়ান্টেড ছিলেন এবং তিনি আনাইট দ্য কিংডম মিছিলে যোগ দিতে লন্ডন এসেছিলেন। অপর ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাকে আক্রমণে উৎসাহিত করার অভিযোগে ওয়ান্টেড ছিলেন। বিবিসি সাংবাদিকরা প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল থেকেও দুজনকে গ্রেফতার হতে দেখেছেন।

‘আনাইট দ্য কিংডম’ মিছিলের সমর্থকেরা কিংসওয়েতে জমায়েত হন। তাদের হাতে ইউনিয়ন জ্যাকের পতাকা, কারও মাথায় ‘মেক ইংল্যান্ড গ্রেট অ্যাগেইন (মেগা)’ লাল টুপি। ‘উই ওয়ান্ট স্টারমার আউট’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি অনেকেই অভিযোগ করেন, ব্রিটেনে বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

অন্যদিকে নাকবা দিবস উপলক্ষে কেনসিংটন থেকে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল শুরু হয়ে পিকাডিলি হয়ে ওয়াটারলু প্লেসে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের গণহত্যাবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বলে দাবি করেন। তাদের অনেকেই কেফিয়েহ পরেছিলেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘স্ম্যাশ দ্য ফার রাইট’ (উগ্র ডানপন্থীদের গুঁড়িয়ে দাও) ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইনিয়ান হোস্টেজেস’ (ফিলিস্তিনি জিম্মিদের মুক্তি দাও)। একাধিক বিক্ষোভকারী বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার এবং ইহুদিরা বিক্ষোভে স্বাগত জানায়।

মেট পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান জানান, এ অভিযানে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ পুলিশি কাজে ‘লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা’ ব্যবহার করা হয়েছে। ইউস্টন ও কিংস ক্রস সেন্ট প্যানক্রাস রেলস্টেশনে বসানো হয়েছে এ প্রযুক্তি। ড্রোনের মাধ্যমে দুই মিছিলের রুট মনিটর করা হচ্ছে। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপ ফাইনাল চলার কারণে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ থেকেও সমর্থকদের নজরদারি করা হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার সরকার জানায়, আনাইট দ্য কিংডম ইভেন্টে যোগ দিতে আসা ১১ জন বিদেশি ‘উগ্র ডানপন্থী উসকানিদাতাকে’ যুক্তরাজ্যে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামবিদ্বেষী প্রভাবশালী ভ্যালেন্টিনা গোমেজ রয়েছেন, যিনি গত সেপ্টেম্বরের প্রথম আনাইট দ্য কিংডম মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই দেশের আত্মার জন্য লড়াই চলছে। আনাইট দ্য কিংডম মিছিল আমাদের ঠিক জানিয়ে দেয় আমরা কার বিপক্ষে লড়ছি— এর আয়োজকরা ঘৃণা ও বিভেদ ছড়াচ্ছে। যারা আমাদের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান, ভীতি প্রদর্শন করতে চান, তাদের আইনের কঠোর সম্মুখীন হতে হবে।’

অন্যদিকে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিলের অন্যতম সংগঠক ‘স্টপ দ্য ওয়ারের’ জন রিস বিবিসি রেডিও ৪-কে প্রশ্ন তোলেন, প্রতি বছর ১৬ মে এই মিছিল হয়, কিন্তু পুলিশ কেন একই দিনে ডানপন্থী মিছিলের অনুমতি দিল? তিনি বলেন, পুলিশের উচিত ছিল ওই মিছিলকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করা।

হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিবাদের অধিকার আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি, কিন্তু যে কেউ ঘৃণা ছড়াবে বা সহিংসতা করবে, তার বিরুদ্ধে আইনের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা বিক্ষোভের প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগান ঘৃণা উসকে দেওয়ার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিলে ‘ইনতিফাদা’ স্লোগানের জন্য গ্রেফতারি সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাবলিক প্রসিকিউশনের পরিচালক স্টিফেন পারকিনসন বলেন, ‘এটি বাকস্বাধীনতা সীমিত করার বিষয় নয়, বরং ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসাধারণকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়।’

সরকারের ইহুদি বিদ্বেষবিরোধী স্বতন্ত্র উপদেষ্টা লর্ড ম্যান বিবিসিকে বলেন, পাবলিক ইভেন্টের আয়োজকদের অংশগ্রহণকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়নে স্ক্রিনিং করা উচিত এবং তাদের আইনের বাইরে না যাওয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে মিছিল শুরুর আগে টমি রবিনসন এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন: ‘আজ আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনীর মাধ্যমে কিংডম ও সমগ্র পশ্চিমকে একত্র করব।’ তবে পুলিশের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিচ্ছিন্ন কিছু গ্রেফতার বাদে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই মিছিলেই বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

নারী নয়, এবার বৃদ্ধ টার্গেটেঃ লন্ডনে গির্জার পাশে ষাটোর্ধ্ব পুরুষ ধর্ষণের শিকার

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে মিথ্যাচার, টিউলিপকে ঘিরে স্টারমারের দুঃস্বপ্ন

ব্রিটিশ পাসপোর্টের আবেদন খরচ বৃদ্ধি করল যুক্তরাজ্য সরকার