19.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘লন্ডন যেন মুসলিমদের শহর’—বোরকা বিতর্কে সমালোচনার মুখে রিফর্ম ইউকের মেয়র প্রার্থী

রিফর্ম ইউকের লন্ডন মেয়র পদপ্রার্থী লায়লা কানিংহামের বোরকা পরা নারীদের স্টপ অ্যান্ড সার্চের আওতায় আনার মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং সমাজে ইসলামবিদ্বেষ আরও উসকে দেবে।

 

২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার পর একটি পডকাস্টে কানিংহাম বলেন, “একটি উন্মুক্ত সমাজে কেউ মুখ ঢেকে রাখতে পারে না” এবং “মুখ ঢেকে রাখলে তা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে—এমনটা ধরে নিতে হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় গেলে সেটিকে “মুসলিমদের শহর” বলে মনে হয় এবং সেখানে “একটি ব্রিটিশ নাগরিক সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

কানিংহাম নিজে বাই বর্ন ব্রিটিশ মুসলিম এবং ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সাবেক কৌঁসুলি হলেও, এসব মন্তব্যের পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মুসলিম উইমেনস নেটওয়ার্ক ইউকের সিইও ও ক্রসবেঞ্চ পিয়ার শাইস্তা গোহির মন্তব্যগুলোকে “বিপজ্জনক” এবং বর্ণবাদীদের জন্য “ডগ হুইসেল” হিসেবে আখ্যা দেন। তার মতে, এসব বক্তব্য মুসলিম নারীদের আরও প্রান্তিক করে তুলবে।

গোহির জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও ঘৃণামূলক বার্তার সংখ্যা বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, তার সংস্থাকে অফিসের বাইরে থাকা সাইনবোর্ড এবং কর্মীদের ছবি সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। তিনি বলেন, কানিংহামের মন্তব্য বিদ্বেষপ্রবণ মানুষদের আরও সাহসী করে তুলছে।

লন্ডনের বর্তমান মেয়র সাদিক খান এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বলেন, একজন মেয়রের দায়িত্ব মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং সবাইকে একত্র করা। তার ভাষায়, বৈচিত্র্যই লন্ডনের শক্তি এবং ধর্ম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্রিটিশ সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ।

এদিকে লেবার এমপি আফজাল খান মন্তব্যগুলোকে “ইচ্ছাকৃত ও রাজনৈতিকভাবে হিসাব করা পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে বোরকা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানি বেড়েছিল, যা প্রমাণ করে—রাজনীতিবিদদের শব্দচয়নের বাস্তব সামাজিক পরিণতি রয়েছে।

বোরকা ইস্যুতে রিফর্ম ইউকের অবস্থানও পুরোপুরি সুসংহত নয়। দলের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফ আগেই বোরকা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবকে দলীয় নীতির বাইরে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় দলের ভেতরে ও বাইরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই বিতর্ক কি সত্যিই জননিরাপত্তার বিষয়, নাকি নির্বাচনী রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টির ইস্যু মাত্র।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

বর্জ্য সংগ্রহকারীদের ধর্মঘটের শততম দিন, বার্মিংহামজুড়ে বর্জ্যের পাহাড়

কেট মিডলটনের ছবি বিতর্ক, নীরবতা ভাঙল রাজপরিবার

গাড়ি চালানোর সময় ডিভাইস হাতে নেয়াই নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্রিটেনে

অনলাইন ডেস্ক